Sports

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যাটিং বিপর্যয়, অস্ট্রেলিয়ার ‘মরচে ধরা’ দলকে তীব্র আক্রমণ পন্টিংয়ের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সর্বনিম্ন সংগ্রহে গুটিয়ে যাওয়ার পরে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের তীব্র সমালোচনা করলেন রিকি পন্টিং।
  • প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের মতে, দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার কারণে দলের ব্যাটিংয়ে মরশুমের গোড়ার জড়তা স্পষ্ট হলেও শুধু সেই অজুহাতে প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের প্রযুক্তিগত ত্রুটি…
  • পাশাপাশি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজে তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ না দেওয়ায় নির্বাচকদেরও কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সর্বনিম্ন সংগ্রহে গুটিয়ে যাওয়ার পরে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের তীব্র সমালোচনা করলেন রিকি পন্টিং। প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের মতে, দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার কারণে দলের ব্যাটিংয়ে মরশুমের গোড়ার জড়তা স্পষ্ট হলেও শুধু সেই অজুহাতে প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের প্রযুক্তিগত ত্রুটি আড়াল করা যায় না। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজে তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ না দেওয়ায় নির্বাচকদেরও কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।

ডারউইনে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া প্রথম টেস্টে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। কিন্তু তাঁর সিদ্ধান্তের মর্যাদা রাখতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। মাত্র ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্টে এটিই তাদের সর্বনিম্ন দলগত সংগ্রহ।

প্রথম দিনের শেষে বাংলাদেশ এক উইকেটে ৯৭ রান তুলেছিল। শুক্রবার চা-বিরতির মধ্যে সফরকারীরা ৮৮ রানের প্রথম ইনিংসের লিড তৈরি করে। ফলে প্রথম টেস্টের শুরুতেই যথেষ্ট চাপে পড়ে যায় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।

শুক্রবার এসইএন-এর ‘ফায়ারবল’ অনুষ্ঠানে পন্টিং বলেন, “দলের ব্যাটিংয়ে মরশুমের গোড়ার জড়তা ছিল। ক্রিকেটাররা দীর্ঘদিন খেলেনি। কিন্তু বিশেষ করে প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের যে প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং ত্রুটি দেখা গিয়েছে, সেগুলিকে এই অজুহাতে ক্ষমা করা যায় না।”

টসে জিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্তেও বিস্মিত পন্টিং। টেস্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল। ডারউইনের পিচে বৃহস্পতিবার সকালের পরিবেশও পেস বোলিংয়ের অনুকূল ছিল। পন্টিংয়ের ধারণা, সেই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার জোরে বোলারদের সামলানো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠত।

তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়া প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমি অবাক হয়েছিলাম। বিশেষ করে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পরে এই সিদ্ধান্ত আরও বিস্ময়কর। ওই পিচে সকালের দিকে অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা প্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে পারত।”

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে একমাত্র স্টিভ স্মিথই কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তিনি ৭১ রান করেন। হাসান মাহমুদের বলে তাঁর ইনিংস শেষ হয়। স্মিথ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার আর কোনও ব্যাটসম্যান ৩০ রানের সীমা পার হতে পারেননি। অবসর নেওয়া উসমান খোয়াজার জায়গায় ওপেনিং সমস্যারও সমাধান হয়নি। জেক ওয়েদারাল্ড ২৩ রান করে ফিরে যান।

পন্টিংয়ের বক্তব্য, টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়ার পরে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে অন্তত ১৯০ রানের চেয়ে অনেক বড় সংগ্রহ প্রত্যাশিত ছিল। এই বিপর্যয় শুধু একটি খারাপ দিনের ফল নয়; অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ব্যাটিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সমস্যার প্রতিফলনও এর মধ্যে রয়েছে।

বাংলাদেশ সিরিজের দল নির্বাচন নিয়েও অসন্তুষ্ট পন্টিং। অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা দল থেকে মাইকেল নেসার, টড মার্ফি ও ব্রেন্ডন ডগেটকে বাদ দেওয়া হয়েছে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে ফিরেছেন অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়ন। কিন্তু ক্যাম্পবেল কেলাওয়ে কিংবা অলি পিকের মতো প্রতিভাবান তরুণদের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

পন্টিং বলেন, “এই দু’টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার তরুণ প্রতিভাদের দেখে নেওয়ার একটা সুযোগ ছিল। কিছুটা সহজাত সিদ্ধান্ত এবং প্রতিভার উপর আস্থা রেখে নির্বাচন করা যেত। কারণ বর্তমান দলে যা রয়েছে, তা গত কয়েক বছর ধরেই টেস্ট ক্রিকেটের মানের উপযুক্ত বলে মনে হচ্ছে না।”

দলের বয়সও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ২৭ বছর বয়সে দলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। বাকি প্রত্যেকের বয়স ৩০ বছরের বেশি। পন্টিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মাঠে নামা অস্ট্রেলীয় দলটি ১৯২৮ সালের পরে দেশের সবচেয়ে বেশি গড় বয়সের টেস্ট দল।

আগামী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে ২১টি টেস্ট খেলতে হবে। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতে কঠিন সফর রয়েছে। এত দীর্ঘ এবং কঠিন সূচিতে বর্তমান বয়স্ক দলকে অপরিবর্তিত রাখা সম্ভব হবে না বলেই মনে করেন পন্টিং।

তাঁর মতে, আগামী পর্বে ১৬ থেকে ১৮ জন ক্রিকেটারকে ঘুরিয়ে খেলাতে হতে পারে। কাজের চাপ সামলানো, চোট এড়ানো এবং অভিজ্ঞদের বিশ্রাম দেওয়ার প্রয়োজনেই নতুন খেলোয়াড়দের দলে আনতে হবে। ফলে নির্বাচকেরা পরিকল্পিতভাবে পুনর্গঠন শুরু না করলেও পরিস্থিতির চাপে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন আসবে।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ডারউইন টেস্ট তাই অস্ট্রেলিয়ার কাছে নিছক একটি ম্যাচ নয়। প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং বিপর্যয় তাদের বয়স, দল নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—তিনটি সমস্যাকেই সামনে এনে দিয়েছে। পন্টিংয়ের সতর্কবার্তা স্পষ্ট: এখনই তরুণ প্রতিভাদের প্রস্তুত না করলে আসন্ন কঠিন টেস্টসূচিতে অস্ট্রেলিয়াকে আরও বড় মূল্য দিতে হতে পারে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles