‘উজাড় করে দাও’, সুবিন্দরকে অর্জুন

যা জানা জরুরি
- আদিত্য ধর পরিচালিত ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ-এ অর্জুন রামপালের সঙ্গে একাধিক তীব্র দৃশ্যে অভিনয় করেছেন সুবিন্দর ভিকি।
- তাঁর চরিত্র ব্রিগেডিয়ার জাহাঙ্গিরের সংলাপের বড় অংশজুড়েই রয়েছে আক্রমণাত্মক ভাষা ও গালিগালাজ।
- শুটিংয়ের আগে বিষয়টি নিয়ে সহ-অভিনেতা অর্জুনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন সুবিন্দর।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
আদিত্য ধর পরিচালিত ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ-এ অর্জুন রামপালের সঙ্গে একাধিক তীব্র দৃশ্যে অভিনয় করেছেন সুবিন্দর ভিকি। তাঁর চরিত্র ব্রিগেডিয়ার জাহাঙ্গিরের সংলাপের বড় অংশজুড়েই রয়েছে আক্রমণাত্মক ভাষা ও গালিগালাজ। শুটিংয়ের আগে বিষয়টি নিয়ে সহ-অভিনেতা অর্জুনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন সুবিন্দর। কিন্তু অর্জুনের এক কথাতেই কেটে যায় তাঁর যাবতীয় দ্বিধা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সুবিন্দর জানান, চিত্রনাট্য হাতে নিয়ে নিজের সংলাপ পড়ে প্রথমে তিনিই চমকে গিয়েছিলেন। এত গালিগালাজ শেষ পর্যন্ত ছবিতে থাকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ ছিল তাঁর। মনে হয়েছিল, সেন্সর বোর্ডের কাঁচিতে হয়তো সংলাপের বেশির ভাগই বাদ পড়বে।
মজা করে পরিচালক আদিত্য ধরকে এমন কথাও বলেছিলেন সুবিন্দর—শেষ পর্যন্ত যদি তাঁর সব সংলাপ ‘বিপ’ শব্দে ঢেকে দেওয়া হয়, তা হলে তাঁকে বোবা চরিত্রে অভিনয় করালেই বোধ হয় ভাল হত!
তবে পরিচালক তাঁকে আশ্বস্ত করেন, সংলাপ বাদ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। সুবিন্দরের কথায়, গালিগালাজের জন্য কৃতিত্ব সম্পূর্ণ চিত্রনাট্যকারের। তিনি নিজে থেকে কোনও অশালীন শব্দ যোগ করেননি—সবটাই চিত্রনাট্যের অংশ।
পরিচালকের অনুমতি পাওয়ার পর কয়েকটি দৃশ্যে নিজের মতো করে আরও কিছু শব্দ যোগ করার কথা ভেবেছিলেন সুবিন্দর। কিন্তু সেখানেও আদিত্য ধর তাঁকে থামিয়ে দেন। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, গালিগালাজ থাকলেও মা-বোনকে জড়িয়ে কোনও অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
সুবিন্দরের মতে, রূঢ় বা আক্রমণাত্মক চরিত্র দেখানোর সময়ও দর্শকের অনুভূতির কথা মাথায় রাখা জরুরি। নির্মাতা এবং অভিনেতা—দু’জনেরই সেই দায়িত্ব রয়েছে।
আর অর্জুন রামপালের সঙ্গে দৃশ্যের আগে ছিল আরও এক মজার মুহূর্ত। শুটিং শুরু হওয়ার আগে সুবিন্দর তাঁকে জানিয়ে দেন, চিত্রনাট্য অনুযায়ী তাঁকে প্রচুর গালিগালাজ করতে হবে। অর্জুনের অবশ্য তাতে বিন্দুমাত্র অস্বস্তি হয়নি। বরং তাঁর সোজাসাপটা উত্তর ছিল, “এটা জীবনেরই অংশ। ক্যামেরার সামনে উজাড় করে দাও।”
এর আগে সতলুজ ছবিতেও একসঙ্গে কাজ করেছিলেন সুবিন্দর ও অর্জুন। ফলে দু’জনের মধ্যে আগেই তৈরি হয়েছিল অভিনয়ের বোঝাপড়া। সেই পরিচিতিই ধুরন্ধর ২-এর উত্তপ্ত দৃশ্যগুলিকে আরও স্বচ্ছন্দ করে তুলেছিল বলে জানান সুবিন্দর।
কোহরা ধারাবাহিকে পুলিশ আধিকারিক বলবীর সিংহের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজরে এসেছিলেন সুবিন্দর। ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ-এ তাঁর চরিত্রের পরিসর তুলনায় ছোট হলেও অভিনয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিস্তর। এমনকি তাঁর সংলাপ ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক মিমও।
সুবিন্দরের মতে, দর্শক এখন পর্দার চরিত্র আর অভিনেতার বাস্তব ব্যক্তিত্বের মধ্যে পার্থক্য করতে জানেন। তাই চরিত্রটি যতই নেতিবাচক, রূঢ় বা আক্রমণাত্মক হোক না কেন, একজন অভিনেতার আসল দায়িত্ব হল সেটিকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



