জাহ্নবীর পর খুশিরও ‘ডিজিটাল ঢাল’

যা জানা জরুরি
- জাহ্নবী কপূরের পর এ বার অনলাইন দুনিয়ায় নিজের পরিচিতি ও ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় দিল্লি হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী স্বস্তি পেলেন তাঁর বোন খুশি কপূর।
- অভিনেত্রীকে ঘিরে ছড়িয়ে থাকা কথিত অশ্লীল ও পর্নোগ্রাফিক বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
- পাশাপাশি খুশির নাম, ছবি বা অন্য কোনও পরিচিতিসূচক বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক পণ্য বিক্রির প্রচারও বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
জাহ্নবী কপূরের পর এ বার অনলাইন দুনিয়ায় নিজের পরিচিতি ও ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় দিল্লি হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী স্বস্তি পেলেন তাঁর বোন খুশি কপূর। অভিনেত্রীকে ঘিরে ছড়িয়ে থাকা কথিত অশ্লীল ও পর্নোগ্রাফিক বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি খুশির নাম, ছবি বা অন্য কোনও পরিচিতিসূচক বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক পণ্য বিক্রির প্রচারও বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
বুধবার খুশির দায়ের করা মামলাটি বিচারপতি জ্যোতি সিংহের এজলাসে ওঠে। অভিনেত্রীর অভিযোগ, তাঁর সম্মতি ছাড়াই বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে আপত্তিকর ছবি ও বিষয়বস্তু ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাঁর নাম ও পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থা নানা পণ্য বিক্রি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খুশির দাবি, এই ধরনের কর্মকাণ্ডে তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও ভাবমূর্তি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই তাঁর পরিচিতির বাণিজ্যিক মূল্যও অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করা হচ্ছে।
আদালত খুশির পক্ষে একটি ‘জন ডো’ নির্দেশ জারির কথা জানিয়েছে। সাধারণত অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় স্পষ্ট না থাকলেও এই ধরনের নির্দেশের মাধ্যমে অজ্ঞাত পক্ষের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে ভবিষ্যতে নতুন কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা খুশির নাম, ছবি কিংবা পরিচিতি ব্যবহার করে আপত্তিকর বিষয় ছড়ালে বা বেআইনি ভাবে ব্যবসা করলে, তাদের বিরুদ্ধেও আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা সম্ভব হবে।
মামলায় খুশির হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী আসভ রাজন ও আভা শাহ।
ঘটনাচক্রে, এর ঠিক এক দিন আগেই একই ধরনের আইনি লড়াইয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন খুশির দিদি জাহ্নবী কপূর। তাঁর সঙ্গে যুক্ত কথিত অশ্লীল ও পর্নোগ্রাফিক বিষয়বস্তু সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভাম্ভানির বেঞ্চ। জাহ্নবী বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বিকৃত ছবি, ভুয়ো বিষয়বস্তু এবং তাঁর পরিচিতি ব্যবহার করে অনুমতিহীন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছিলেন।
তবে জাহ্নবীর মামলায় আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখাও স্পষ্ট করে দেয়। তাঁর নাম বা পরিচিতি ব্যবহার করে তৈরি সমস্ত অনলাইন বিষয়বস্তু কিংবা অনুরাগী পাতা নিষিদ্ধ করার দাবি আদালত মেনে নেয়নি।
বিচারপতির বক্তব্য ছিল, কোনও জনপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে বৈধ সমালোচনা, মতামত বা অনুরাগীদের স্বাভাবিক প্রকাশকে শুধু ব্যক্তিত্বের অধিকার দেখিয়ে বন্ধ করা যায় না। অশ্লীলতা, গুরুতর অপব্যবহার বা অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক লাভের মতো ক্ষেত্রে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে। কিন্তু বৈধ মতপ্রকাশের উপর সার্বিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায় না।
খুশির মামলাটিও তাই শুধু একজন অভিনেত্রীর অনলাইন নিরাপত্তার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও বড় একটি প্রশ্ন—ডিজিটাল দুনিয়ায় একজন তারকার নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর বা চেহারার মালিকানা ও ব্যবহারের সীমা কোথায়?
সাম্প্রতিক সময়ে বহু তারকা নিজেদের নাম, কণ্ঠস্বর, ছবি এবং অবয়বের অনুমতিহীন ব্যবহার ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি ভুয়ো ছবি এবং ডিপফেক প্রযুক্তির বিস্তার এই সমস্যা আরও জটিল করে তুলেছে।
ফলে জাহ্নবীর পর খুশির এই আইনি স্বস্তি বলিউডের আরও একটি বার্তা স্পষ্ট করল—অনলাইনে তারকার পরিচিতি ব্যবহার করে যা খুশি করা যাবে না। তবে সেই সুরক্ষার সীমারেখা যেন বৈধ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও ছাপিয়ে না যায়, আদালত সেটিও একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিচ্ছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



