বিচ্ছেদ পাকা, সই বাকি!

যা জানা জরুরি
- গৌরব খন্নার সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে।
- অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা চামোলা জানিয়েছেন, দু’জনের বিচ্ছেদ নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা প্রায় শেষ।
- অর্থাৎ সিদ্ধান্তে ইতি পড়লেও কাগজে-কলমে তাঁরা এখনও স্বামী-স্ত্রী।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
গৌরব খন্নার সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ এখনও বাকি। অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা চামোলা জানিয়েছেন, দু’জনের বিচ্ছেদ নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা প্রায় শেষ। এখন শুধু চূড়ান্ত নথিতে তাঁদের সই করা বাকি। অর্থাৎ সিদ্ধান্তে ইতি পড়লেও কাগজে-কলমে তাঁরা এখনও স্বামী-স্ত্রী।
বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খোলার পর থেকেই আকাঙ্ক্ষাকে ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, ‘লক আপ ২’-এর প্রচারের জন্যই তিনি ব্যক্তিগত জীবনের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন কি না, উঠেছে সেই প্রশ্নও। তবে সেই অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি ‘লক আপ ২’-এর প্রথম পর্বেই গৌরবের সঙ্গে বিচ্ছেদের কথা প্রকাশ্যে আনেন আকাঙ্ক্ষা। জানান, প্রায় এক বছর ধরে তাঁরা আলাদা থাকছেন। এত দিন ব্যক্তিগত বিষয়টি আড়ালে রাখলেও এখন আর তা গোপন করার প্রয়োজন দেখছেন না তিনি।
শো শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আকাঙ্ক্ষা জানান, বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া ‘লক আপ ২’-এ যোগ দেওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল। তাই অনুষ্ঠান বা তার প্রচারের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই।
তাঁর কথায়, কোনও মহিলা শুধুমাত্র দর্শকসংখ্যা বাড়ানোর জন্য এত বড় মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের বিবাহবিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করবেন—এমনটা তিনি বিশ্বাস করেন না। কেউ যদি এখনও বিষয়টিকে প্রচারের কৌশল বলে মনে করেন, তাঁদের প্রয়োজনে তাঁর বাড়িতে এসে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলারও আহ্বান জানিয়েছেন আকাঙ্ক্ষা।
অভিনেত্রীর দাবি, তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে প্রচারের কৌশল হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তাঁদের বিয়ের সময়ও অনেকে একই ধরনের সন্দেহ করেছিলেন। কিন্তু সেই ধারণা যে ভুল ছিল, তা এখনকার পরিস্থিতিই প্রমাণ করছে বলে তাঁর বক্তব্য।
গৌরব ও আকাঙ্ক্ষার বিয়ে হয়েছিল ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর, কানপুরে। প্রায় এক দশকের দাম্পত্যের পর দু’জনেই আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আকাঙ্ক্ষার বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিচ্ছেদে কোনও তিক্ততা নেই। দু’জনের মধ্যে এখনও যোগাযোগ রয়েছে, প্রয়োজন হলে তাঁরা একে অপরের পাশে দাঁড়ান এবং প্রকাশ্য অনুষ্ঠানেও কখনও কখনও একসঙ্গে দেখা যায়।
তাহলে সম্পর্ক ভাঙল কেন?
আকাঙ্ক্ষার ব্যাখ্যা, ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে তাঁদের ভাবনা এবং প্রত্যাশা ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গিয়েছে। দম্পতি হিসেবে নিজেদের আর আগের মতো মানানসই মনে করেন না তাঁরা। দু’জনের কল্পনা করা ভবিষ্যতে একে অপরের জায়গা নেই—এই উপলব্ধি থেকেই বিয়েটিকে আইনি ভাবে শেষ করার সিদ্ধান্ত।
পরিবার অবশ্য শুরুতে ভেবেছিল, কিছুটা দূরত্ব হয়তো তাঁদের সম্পর্ককে নতুন করে সুযোগ দেবে। নিয়মিত যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকায় কাছের মানুষদেরও আশা ছিল, হয়তো শেষ পর্যন্ত তাঁরা আবার একসঙ্গে ফিরবেন। কিন্তু আকাঙ্ক্ষার কথায়, তাঁদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সেই অনুভূতিটিই আর অবশিষ্ট নেই।
বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ হওয়ার পর নতুন করে বিয়ে করার ইচ্ছাও নেই বলে আগেই জানিয়েছিলেন আকাঙ্ক্ষা। নিজের একটি বাড়ি তৈরি করে স্বাধীন ভাবে জীবন কাটাতে চান তিনি।
তবে আপাতত তাঁর জীবনের গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাক্যটি বেশ সরল—সম্পর্কের সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়াও প্রায় শেষ। শুধু সইটাই বাকি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



