বাংলাস্ফিয়ার: নব্বইয়ের দশকে ম্যানচেস্টারে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ধর্ষণ ও পাচারের অভিযোগে তদন্তাধীন পাকিস্তানি রাজনীতিক রুখসার আহমেদ কবে ব্রিটেনে ফিরে পুলিশের মুখোমুখি হবেন, তা জানাতে অস্বীকার করেছেন। ব্রিটেনে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পাকিস্তানে গিয়ে তিনি ফের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন।
‘দ্য গার্ডিয়ান’ জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ৬১ বছরের রুখসারকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভিযোগ, নব্বইয়ের দশকে ম্যানচেস্টারের রাশোলম এলাকার কেয়ার হোমে থাকা অন্তত দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে তিনি ধর্ষণ ও পাচার করেছিলেন।
গ্রেফতারের পরে তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। প্রায় দু’মাস আগে তিনি পাকিস্তানে চলে যান। পরে ব্রিটেনে পুলিশের কাছে হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা দেননি। পুলিশকে তাঁর দাবি ছিল, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ব্রিটেনে ফেরার মতো অবস্থায় তিনি নেই।
এর কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্য-ডানপন্থী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের প্রার্থী হিসেবে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন।
রবিবার জানা যায়, পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের মিরপুর জেলার খারি শরিফ গ্রামে নিজের দফতরেই রয়েছেন রুখসার। ‘মেল অন সানডে’-র এক সাংবাদিক সেখানে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। রুখসার জানান, জামিনের শর্ত পূরণ করতে তিনি ব্রিটেনে ফিরবেন। কিন্তু ঠিক কবে ফিরবেন, সেই তারিখ জানাতে রাজি হননি।
তাঁর বক্তব্য, ‘‘সব কিছু ম্যানচেস্টার ও লন্ডনে আমার আইনজীবীদের হাতে রয়েছে। তাঁরা আমাকে এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করেছেন।’’
ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি। রুখসারের দাবি, ‘‘আমাকে কোনও অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি, এমনকি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়নি। তা হলে এসব কী হচ্ছে?’’
তাঁকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে ধর্ষণ করেছিলেন কি না। সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন রুখসার। তাঁর বক্তব্য, এ ভাবে প্রশ্ন করা ঠিক হচ্ছে না এবং তাঁর সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনও সম্পর্ক নেই।
শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতেও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুখসার। তিনি লিখেছেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ আমি স্পষ্ট ভাবে অস্বীকার করছি। যথাযথ মঞ্চে এই অভিযোগগুলির জবাব দেব। আইনি পরামর্শ অনুযায়ী, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় এখন আর কোনও মন্তব্য করব না।’’
২০০৬ সাল থেকে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রাদেশিক সরকারে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন রুখসার। ২০২১ সালে নির্বাচনে নিজের আসন হারান তিনি।
‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রুখসারকে জামিন দেওয়ার সময় তাঁর বিদেশযাত্রার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চেয়েছিল গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ। কিন্তু আরও কঠোর জামিনের শর্ত আরোপের সেই আবেদন বিচারক মঞ্জুর করেননি।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। যে রাশোলম এলাকার পুরনো শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে, সেখানে বহু বছর বসবাস করেছিলেন রুখসার। ম্যানচেস্টারের বিখ্যাত ‘কারি মাইল’-এর কাছে ‘গুজ্জর প্যালেস’ নামে একটি প্রাক্তন রেস্তোরাঁর মালিকও তিনি।
বর্তমান তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় কেয়ার হোমের শিশুদের যৌন নির্যাতনের বিষয়ে একাধিক মহিলার অভিযোগ। সেই সময় রুখসারের বয়স ছিল কুড়ির কোঠার শেষ দিকে।
আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে তাঁর ব্রিটেনে ফিরে পুলিশের জামিন-সংক্রান্ত হাজিরা দেওয়ার কথা। তিনি হাজির না হলে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আবেদন করতে পারে অথবা তাঁকে ব্রিটেনে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।
ম্যানচেস্টারের একাধিক ‘গ্রুমিং গ্যাং’ মামলায় নির্যাতিতদের হয়ে কাজ করা আইনজীবী রিচার্ড স্কোরার বলেন, গত তিন দশকে রাশোলমের নাম বারবার এ ধরনের তদন্তে উঠে এসেছে। ওই এলাকায় শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বহু অভিযোগ অতীতে যথাযথ ভাবে তদন্ত করা হয়নি বলেও তাঁর দাবি।
স্কোরারের কথায়, ‘‘আমি আশা করি, এ ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক তদন্ত হচ্ছে।’’