আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রস্টেট ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে শরীরের অন্য অংশেও। ক্যানসার পৌঁছেছে হাড়ে। ৮৩ বছরের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এখন তীব্র যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন। বাবার শারীরিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারলেন না তাঁর ছেলে হান্টার বাইডেন।
শুক্রবার রাতে বিবিসিতে সম্প্রচারিত এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বাবার অসুস্থতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন হান্টার। জানান, জো বাইডেনকে এই অবস্থায় দেখা পরিবারের প্রত্যেকের কাছেই অত্যন্ত কষ্টকর।
হান্টারের কথায়, ‘‘ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে। হাড়ে এবং তারও বাইরে ছড়িয়েছে। এটা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং অনেক দিক থেকেই তাঁকে শারীরিক ভাবে দুর্বল করে দিচ্ছে।’’
বয়সের লড়াই
আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছিলেন জো বাইডেন। তাঁর চার বছরের মেয়াদের বড় একটা সময় জুড়েই বয়স এবং শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বিপর্যয়কর টেলিভিশন বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত পুনর্নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান বাইডেন। পরে প্রশ্ন ওঠে, তাঁর শারীরিক সমস্যার প্রকৃত মাত্রা হোয়াইট হাউস এবং ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা গোপন করেছিলেন কি না।
বিপদের খবর
হোয়াইট হাউস ছাড়ার চার মাসেরও কম সময় পরে, গত বছরের মে মাসে নিজের প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ করেন বাইডেন।
হান্টার জানান, বাবার ক্যানসার ধরা পড়ার পর থেকেই গোটা পরিবারের কাছে সময়টা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।
বাবার কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তাঁর গলায় আবেগ স্পষ্ট। হান্টার বলেন, ‘‘তাঁকে এ ভাবে দেখতে সত্যিই খুব কষ্ট হয়। বাবার বর্তমান স্বাস্থ্য সম্পর্কে আমি শুধু একটা কথাই বলব—আমি চাই, তিনি যেন তাঁর কষ্টের কথা আরও বেশি করে বলেন। কারণ এই ভাবে সব সহ্য করে যাওয়া ভাল নয়।’’
তবু থামেননি
গুরুতর অসুস্থতা সত্ত্বেও জনজীবন থেকে পুরোপুরি সরে যাননি বাইডেন। নিজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখছেন তিনি।
হান্টারের কথায়, ‘‘তিনি এখনও বাইরে যাচ্ছেন, নিজের কাজ করছেন। এই দেশের প্রতি তাঁর বিশ্বাস এতটাই গভীর।’’
ক্ষমার কাঁটাও
সাক্ষাৎকারে নিজের প্রতি বাবার বিতর্কিত প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমার প্রসঙ্গও তোলেন হান্টার।
প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার আগে ছেলেকে ক্ষমা করেছিলেন বাইডেন। হান্টারের দাবি, বাবা যদি তাঁকে ক্ষমা না করতেন, তা হলে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করতেন।
তবে বাবার সেই সিদ্ধান্ত যে রাজনৈতিক ও নৈতিক ভাবে বিতর্কিত, তা অস্বীকার করেননি হান্টার। এমনকি এই সিদ্ধান্ত জো বাইডেনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।
হান্টার বলেন, ‘‘এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা খুব সহজেই করা যায় এবং সেই সমালোচনার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। আমি শুধু জানি, বাবা আমার জন্য এটা করেছেন বলে আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।’’
এর পরেই তাঁর প্রশ্ন, ‘‘বাইরে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের কাছে আমার শুধু একটাই প্রশ্ন—আমার বাবা যদি আমার জন্য এটা না করতেন, তা হলে আপনারা তাঁর সম্পর্কে কী ভাবতেন?’’
শেষ লড়াইও কলমে
গুরুতর অসুস্থতার মধ্যেও নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি স্মৃতিকথা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাইডেন। বইটির নাম ‘প্রমিস মি, আমেরিকা’।
আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বইটি প্রকাশিত হওয়ার কথা।
রাজনীতির মঞ্চ থেকে সরে গেলেও বাইডেনের লড়াই যেন থামেনি। একদিকে শরীরে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই, অন্যদিকে নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধরে রাখার চেষ্টা—এই দুইয়ের মাঝেই জীবনের নতুন অধ্যায় লিখছেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট।