অর্থ ও বাণিজ্য

বিদেশি ইটিএফের বাজারদর সম্পদের চেয়ে বেশি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: ভারতে তালিকাভুক্ত কয়েকটি বিদেশি সূচকভিত্তিক ইটিএফে বিনিয়োগকারীরা অন্তর্নিহিত সম্পদের মূল্যের চেয়ে অস্বাভাবিক বেশি দাম দিচ্ছেন।
  • ২৩ সেপ্টেম্বরের বাজার-পর্যালোচনায় মোতিলাল ওসওয়াল ন্যাসড্যাক কিউ-৫০ ইটিএফের বাজারদর কোনও সময়ে নিট সম্পদমূল্যের প্রায় চার গুণ পর্যন্ত ওঠার কথা এসেছে।
  • পরে ধারাবাহিক বড় পতন হলেও সেটি শুধু আমেরিকার প্রযুক্তি-শেয়ারের পতনের প্রতিফলন ছিল না; স্থানীয় বাজারে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম সঙ্কোচনও দাম নামাতে পারে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: ভারতে তালিকাভুক্ত কয়েকটি বিদেশি সূচকভিত্তিক ইটিএফে বিনিয়োগকারীরা অন্তর্নিহিত সম্পদের মূল্যের চেয়ে অস্বাভাবিক বেশি দাম দিচ্ছেন। ২৩ সেপ্টেম্বরের বাজার-পর্যালোচনায় মোতিলাল ওসওয়াল ন্যাসড্যাক কিউ-৫০ ইটিএফের বাজারদর কোনও সময়ে নিট সম্পদমূল্যের প্রায় চার গুণ পর্যন্ত ওঠার কথা এসেছে। পরে ধারাবাহিক বড় পতন হলেও সেটি শুধু আমেরিকার প্রযুক্তি-শেয়ারের পতনের প্রতিফলন ছিল না; স্থানীয় বাজারে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম সঙ্কোচনও দাম নামাতে পারে।

ইটিএফ সাধারণভাবে সূচকের সম্পদ ধরে এবং ইউনিট তৈরি বা ভাঙার মাধ্যমে বাজারদরকে নিট সম্পদমূল্যের কাছাকাছি রাখে। অনুমোদিত বড় অংশগ্রহণকারী দাম বেশি হলে নতুন ইউনিট এনে বিক্রি করতে পারে, কম হলে ইউনিট কিনে সম্পদ ছাড়াতে পারে। কিন্তু ভারতীয় মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের বিদেশি বিনিয়োগে মোট সাতশো কোটি ডলার এবং বিদেশি ইটিএফে আলাদা একশো কোটি ডলারের সীমা পূর্ণ থাকায় কয়েকটি প্রকল্প নতুন বিদেশি সম্পদ কিনে ইউনিট তৈরি করতে পারছে না। সরবরাহ আটকে থেকেও চাহিদা বাড়লে বাজারদর সম্পদের মূল্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।

২১ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, কিছু আলোচিত প্রকল্পে প্রিমিয়াম প্রায় ১৯ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে ছিল; কিউ-৫০-র ক্ষেত্রে তারও বহু বেশি ওঠানামা দেখা গেছে। এই অঙ্ক প্রতি মিনিটে বদলাতে পারে। তাই পুরনো সংবাদে দেওয়া প্রিমিয়াম আজকের ক্রয়দর নয়। বিনিয়োগের আগে প্রকল্পের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ নিট সম্পদমূল্য বা নির্দেশক নিট মূল্য, এক্সচেঞ্জের বাজারদর এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবধান পাশাপাশি দেখা জরুরি।

ধরা যাক, অন্তর্নিহিত বিদেশি শেয়ারের প্রতি ইউনিট মূল্য ১০০ টাকা, কিন্তু স্থানীয় ইউনিট ১৫০ টাকায় কেনা হল। বিদেশি সূচক অপরিবর্তিত থেকেও প্রিমিয়াম ৫০ টাকা থেকে শূন্য হলে বাজারদর ১০০ টাকায় নামতে পারে। মুদ্রার বিনিময়হারও আলাদা ঝুঁকি। ফলে আন্তর্জাতিক বৈচিত্র্য পাওয়ার সঠিক ধারণা থাকলেও যে কোনও দামে সেই সম্পদ কেনা যুক্তিসঙ্গত হয় না।

প্রকল্পের নামের মধ্যে ‘ন্যাসড্যাক’, ‘ফ্যাং’ বা দেশের নাম থাকলেই একই ঝুঁকি নয়। সূচকের শেয়ারসংখ্যা, ক্ষেত্রভিত্তিক ঘনত্ব, খরচের অনুপাত, ট্র্যাকিং পার্থক্য, কর এবং স্থানীয় লেনদেনের পরিমাণ ভিন্ন। সরাসরি বিদেশে বিনিয়োগও সহজ বিকল্প নয়; সেখানে রেমিট্যান্সের নিয়ম, মুদ্রা-খরচ, প্ল্যাটফর্ম ঝুঁকি এবং ভারতীয় কর-প্রতিবেদন রয়েছে।

দামের আরেকটি বিভ্রান্তি আসে আগের দিনের নিট সম্পদমূল্য ব্যবহারে। বিদেশি বাজার ভারতীয় বাজারের সময়ের পরে খোলে; মুদ্রার দরও বদলায়। তাই প্রকাশিত এনএভি কিছুটা পুরনো হতে পারে এবং সীমিত স্বাভাবিক ব্যবধান দেখা যায়। কিন্তু বহু দশ বা শত শতাংশ প্রিমিয়াম কেবল সময়ের ফারাক দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। নির্দেশক এনএভি থাকলে সেটিও আনুমানিক, নিশ্চয়তা নয়। এক্সচেঞ্জে ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা কম হলে ছোট অর্ডারেও শেষ দাম লাফাতে পারে।

ফান্ড হাউস নতুন এককালীন বিনিয়োগ বা সৃষ্টিকারী ইউনিট বন্ধ করলেও পুরনো ইউনিট এক্সচেঞ্জে কেনাবেচা চলতে পারে। সেই চলমান লেনদেন দেখে তহবিল বিদেশে নতুন শেয়ার কিনছে ধরে নেওয়া যাবে না। প্রকল্পের নোটিসে সাবস্ক্রিপশন, সৃষ্টি ও বাজার-নির্মাতার অবস্থাই এই পার্থক্য বোঝায়।

বিশ্লেষণ: এই ঘটনার মূল শিক্ষা সূচক বাছাইয়ের আগেও দাম যাচাই। ইটিএফের দুই মূল্য—এক্সচেঞ্জে বাজারদর এবং তহবিলের অন্তর্নিহিত সম্পদমূল্য—এক নয়। সাধারণ সময়ে সালিশি ব্যবস্থায় ব্যবধান ছোট থাকে বলে অনেক বিনিয়োগকারী তা ভুলে যান। বিদেশি সীমা সেই যন্ত্র দুর্বল করায় প্রিমিয়াম নিজেই বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।

প্রিমিয়াম দেখে এখনই বিক্রি বা কিনতে বলা যায় না; কর, ক্রয়মূল্য ও লক্ষ্য ব্যক্তিভেদে আলাদা। কিন্তু বাজার-অর্ডার দিয়ে অল্প লেনদেনের সময়ে কেনা বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ দেখা দাম ও কার্যকর দাম আলাদা হতে পারে। তহবিল নতুন টাকা নিচ্ছে কি না এবং ইউনিট তৈরির ক্ষমতা ফিরেছে কি না—এই তথ্য ছাড়া শুধু গত বছরের রিটার্ন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। আন্তর্জাতিক বৈচিত্র্য বাজারঝুঁকি ভাগ করে; অতিরিক্ত দামে কেনার ঝুঁকি মুছে দেয় না।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles