নৌপথের স্থানাঙ্কে ঐকমত্যের দাবি তেহরানের; বড় যুদ্ধবিরতির পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে জল্পনা
হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নির্দিষ্ট নৌপথের ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট) নিয়ে ইরান ও ওমান একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বুধবার বলেন, তৃতীয় কোনও পক্ষ বাধা সৃষ্টি না করলে খুব শিগগিরই এ নিয়ে দুই দেশের যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।
তবে বাঘায়ি স্পষ্ট করেছেন, এই সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালির সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে যাবে—এমনটা বলা যায় না।
কী নিয়ে সমঝোতা?
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নির্দিষ্ট নৌপথের ভৌগোলিক সীমারেখা। বাঘায়ির দাবি, এ বিষয়ে তেহরান ও মাসকাট অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছেছে এবং যৌথ বিবৃতির খসড়া তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে।
তাঁর কথায়, আলোচনা অত্যন্ত পেশাদার পরিবেশে এগিয়েছে এবং এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
বড় কূটনৈতিক সাফল্য?
রয়টার্স-এর উদ্ধৃত এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র এবং দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার দাবি, প্রস্তাবিত চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হবে।
সেটি বাস্তবায়িত হলে ইরানের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
যুদ্ধবিরতির পথেও কি অগ্রগতি?
আঞ্চলিক কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।
সে ক্ষেত্রে—
- হরমুজ প্রণালি আবার পুরোপুরি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে যেতে পারে।
- ইরানের বন্দরগুলির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ আংশিক শিথিল হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
- বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চলা অস্থিরতাও কিছুটা কমতে পারে।
ট্রাম্পের দাবি, তবে সংশয়ও রয়েছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পৃথক শান্তি চুক্তি নিয়ে খুব শিগগিরই ঘোষণা আসতে পারে।
তবে বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্রের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করার আগে এখনও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত হওয়া বাকি। ফলে চুক্তি এখনই আসন্ন—এমনটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
বদলাতে পারে আঞ্চলিক সমীকরণ
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান-ওমানের এই সমঝোতাকে সমর্থন করে, তাহলে তা হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের ভূমিকা সম্পর্কে ওয়াশিংটনের অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার আগে হরমুজ প্রণালি কার্যত একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তী সময়ে ইরান ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং হামলার অভিযোগের মুখে পড়ে, যার জেরে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ে।
এখন কী?
বাঘায়ির বক্তব্য অনুযায়ী, তৃতীয় কোনও পক্ষের হস্তক্ষেপ না হলে খুব শিগগিরই ইরান ও ওমান যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করবে। তবে এই সমঝোতা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয় এবং তা বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।