বাংলাস্ফিয়ার: ঝাড়খণ্ডের অন্যতম কুখ্যাত গ্যাংস্টার সুজিত সিনহা রবিবার গভীর রাতে জামতাড়া জেলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে। সাহিবগঞ্জ মণ্ডল কারাগার থেকে ধানবাদ জেলে স্থানান্তরের সময় পালানোর চেষ্টা করলে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুজিত সিনহাকে চারটি গাড়ির একটি কনভয়ে করে ধানবাদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সাহিবগঞ্জ-গোবিন্দপুর জাতীয় সড়কের জামতাড়া থানার অন্তর্গত সুপাইদিহ গ্রামের কাছে পৌঁছলে এসকর্টে থাকা একটি গাড়ির টায়ার হঠাৎ পাংচার হয়ে যায়। এরপর নিরাপত্তার স্বার্থে সুজিতকে অন্য একটি গাড়িতে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
সেই সময় সুজিত শৌচাগারে যাওয়ার অনুমতি চায়। পুলিশ জানায়, তাকে গাড়ি থেকে নামানোর পর আচমকাই সে এক নিরাপত্তারক্ষীর রাইফেল কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। অভিযোগ, পালানোর সময় সে এসকর্টকারী পুলিশ দলের দিকে গুলিও চালায়।
পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হন নিরাপত্তারক্ষীরা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সুজিত সিনহাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর গোটা এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সংঘর্ষের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কীভাবে বন্দি নিরাপত্তারক্ষীর অস্ত্র কেড়ে নিতে সক্ষম হল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সুজিত সিনহা দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়খণ্ডের কয়লা ব্যবসা, তোলাবাজি, চাঁদাবাজি, খুন এবং অস্ত্র পাচার-সহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় বহু ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। বহু বছর ধরে সে পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধীদের তালিকায় ছিল। গ্রেফতারের পর তাকে উচ্চ নিরাপত্তার মধ্যে বিভিন্ন জেলে রাখা হচ্ছিল।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ধানবাদ জেলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল নিরাপত্তাজনিত কারণে। তবে স্থানান্তরের মাঝপথে এই নাটকীয় ঘটনায় তার মৃত্যু হওয়ায় বন্দি পরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
যদিও পুলিশের বক্তব্যে এটিকে আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালানোর ঘটনা বলা হয়েছে, তবু গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তে পুলিশের দাবি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথার্থতা এবং সংঘর্ষের প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।