খবর

চীনকে টপকাতে দরকার ৩৫ বছরের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি, বললেন সঞ্জীব সান্যাল

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ভারত যদি অর্থনৈতিক শক্তিতে চীনের সমকক্ষ হতে চায়, তবে তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি এবং টানা কয়েক দশক ধরে উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা ছাড়া…
  • প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যালের মতে, অর্থনৈতিক আধিপত্যের মূল চাবিকাঠি হল ‘কম্পাউন্ডিং’ বা চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধির শক্তিকে কাজে লাগানো।
  • এক আলোচনায় সান্যাল বলেন, অর্থনীতিতে সাফল্য রাতারাতি আসে না।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ভারত যদি অর্থনৈতিক শক্তিতে চীনের সমকক্ষ হতে চায়, তবে তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি এবং টানা কয়েক দশক ধরে উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা ছাড়া বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যালের মতে, অর্থনৈতিক আধিপত্যের মূল চাবিকাঠি হল ‘কম্পাউন্ডিং’ বা চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধির শক্তিকে কাজে লাগানো।

এক আলোচনায় সান্যাল বলেন, অর্থনীতিতে সাফল্য রাতারাতি আসে না। একটি দেশ যদি ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে, তবেই তার প্রকৃত অর্থনৈতিক রূপান্তর সম্ভব হয়। তাঁর বক্তব্য, “অর্থনৈতিক আধিপত্য নির্ভর করে কম্পাউন্ডিংয়ের উপর। ভারতের সামনে প্রায় ৩৫ বছরের একটি কৌশলগত সময়সীমা রয়েছে, যার মধ্যে ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।”

সান্যালের মতে, চীন গত চার দশকে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তার মূল কারণ হল দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা। প্রতি বছর সামান্য বেশি প্রবৃদ্ধিও কয়েক দশক পরে বিশাল ব্যবধান তৈরি করে। সেই কারণেই ভারতের লক্ষ্য হওয়া উচিত স্বল্পমেয়াদি উত্থান-পতনের দিকে না তাকিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, ভারতের জনসংখ্যাগত সুবিধা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোয় বিনিয়োগ আগামী কয়েক দশকে দেশের বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে নীতি-নির্ধারণে ধারাবাহিকতা, সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।

সান্যালের বক্তব্যে উঠে আসে, ভারতের অর্থনৈতিক যাত্রাকে একটি ম্যারাথনের সঙ্গে তুলনা করা উচিত, স্প্রিন্টের সঙ্গে নয়। তিনি বলেন, অর্থনীতিতে প্রকৃত পরিবর্তন আসে তখনই, যখন একটি দেশ বহু বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন, বিনিয়োগ, দক্ষতা এবং উদ্ভাবন বাড়িয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিগুলির অন্যতম। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। কিন্তু চীনের অর্থনীতির আকার এখনও ভারতের তুলনায় অনেক বড়। ফলে সেই ব্যবধান কমাতে হলে শুধু উচ্চ প্রবৃদ্ধি নয়, তা দীর্ঘ সময় ধরে ধরে রাখাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সান্যালের মন্তব্য সেই বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য নির্ভর করে এক বছরের রেকর্ড বৃদ্ধির উপর নয়; বরং কয়েক দশক ধরে অবিচ্ছিন্নভাবে প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখার উপর। আর সেই ধারাবাহিকতার শক্তিই শেষ পর্যন্ত একটি দেশকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নেতৃত্বের আসনে পৌঁছে দিতে পারে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles