খবর

বিমাহীন গাড়িতে পেট্রোল-ডিজেল নয়? সুপ্রিম কোর্টের প্রস্তাবে সড়ক নিরাপত্তায় বড় বার্তা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: সড়কে চলা বিমাহীন যানবাহনের সংখ্যা কমাতে এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল সুপ্রিম কোর্ট।
  • মঙ্গলবার বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ কেন্দ্র সরকার এবং বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইআরডিএআই (IRDAI)-কে এমন একটি পাইলট প্রকল্প তৈরির নির্দেশ…
  • একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে বিমাহীন যানবাহন চিহ্নিত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করার ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে বলেছে আদালত।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: সড়কে চলা বিমাহীন যানবাহনের সংখ্যা কমাতে এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ কেন্দ্র সরকার এবং বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইআরডিএআই (IRDAI)-কে এমন একটি পাইলট প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দিয়েছে, যাতে বিমাহীন গাড়িকে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি না দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে বিমাহীন যানবাহন চিহ্নিত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করার ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে বলেছে আদালত।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, মোটরযান আইন অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষের বিমা বাধ্যতামূলক হলেও দেশের রাস্তায় এখনও বিপুল সংখ্যক গাড়ি বৈধ বিমা ছাড়াই চলছে। এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাঁর পরিবার প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পেতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতি বদলাতেই আদালত একাধিক সুদূরপ্রসারী প্রস্তাব সামনে এনেছে।

সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাব হল, বিমাহীন গাড়িকে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা। আদালত কেন্দ্র ও আইআরডিএআই-কে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প তৈরি করতে বলেছে, যেখানে পেট্রোল পাম্পে গাড়ির নম্বর যাচাই করে বিমার বৈধতা নিশ্চিত করা যেতে পারে। যদি বিমা না থাকে, তাহলে সেই গাড়িকে জ্বালানি না দেওয়ার ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

শুধু জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ নয়, আদালত প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার দিকেও জোর দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন শহরে বসানো অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন (ANPR) ক্যামেরাকে বিমা সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কোনও বিমাহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল করলে ক্যামেরা তা শনাক্ত করবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-চালান জারি করা যাবে। এতে পুলিশের উপর নির্ভরতা কমবে এবং আইন প্রয়োগ আরও কার্যকর হবে।

ট্র্যাফিক পুলিশের জন্যও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পুলিশ কর্মীদের হাতে এমন হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে রাস্তার উপরেই কোনও গাড়ির বিমার অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যাবে। এতে নথিপত্র পরীক্ষা করতে সময় কম লাগবে এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহারের সুযোগও হ্রাস পাবে।

আদালত নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক তৃতীয় পক্ষের বিমার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও ভাবতে বলেছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিমা বাধ্যতামূলক থাকলেও পরে অনেকেই তা নবীকরণ করেন না। দীর্ঘমেয়াদি বাধ্যতামূলক বিমা চালু হলে বিমাহীন যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে আদালতের ধারণা।

এছাড়া মোটর দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত পুরনো মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির উপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বেঞ্চ। আদালতের মতে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছে ক্ষতিপূরণ কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, ন্যায়বিচারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলির নিষ্পত্তি দ্রুত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগী হতে হবে।

ভারতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে এবং বহু মানুষ প্রাণ হারান বা স্থায়ীভাবে আহত হন। দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ বিমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বহু গাড়ির বিমা ল্যাপস হয়ে যাওয়া বা একেবারেই বিমা না থাকার কারণে ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ে। সেই বাস্তবতাকেই সামনে রেখে আদালত বলেছে, আইন কার্যকর করতে কেবল জরিমানার উপর নির্ভর করলে হবে না; প্রযুক্তি, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং কঠোর প্রয়োগ—এই তিনটির সমন্বিত ব্যবস্থাই ভবিষ্যতের পথ।

যদিও বিমাহীন গাড়িকে জ্বালানি না দেওয়ার প্রস্তাব এখনও কার্যকর হয়নি, আদালতের নির্দেশে কেন্দ্র সরকার ও আইআরডিএআই একটি রূপরেখা তৈরি করবে। সেই পাইলট প্রকল্পের ফলাফল বিচার করে ভবিষ্যতে সারা দেশে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের এই উদ্যোগকে বিশেষজ্ঞদের একাংশ সড়ক নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করছেন। কারণ, এর লক্ষ্য কেবল আইনভঙ্গকারীদের শাস্তি দেওয়া নয়, বরং এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে দুর্ঘটনার শিকার মানুষ দ্রুত ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পান এবং দেশের রাস্তায় বিমাহীন গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles