পেশোয়ার/স্বাত: পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের স্বাত উপত্যকায় একটি শান্তি সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। হামলায় আরও দুই ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
রবিবার স্বাতের কাবাল শহরে একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে এই সমাবেশের আয়োজন করেছিল স্বাত আমান জিরগা নামে একটি স্থানীয় উপজাতীয় সংগঠন। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে শতাধিক মানুষ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। তারা জঙ্গিবাদবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং সরকারের কাছে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছিলেন।
পুলিশের দাবি, আত্মঘাতী হামলাকারী ভিড়ের মধ্যে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই বহু মানুষ নিহত হন এবং চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের জরুরি পরিষেবার মুখপাত্র বিলাল ফয়েজি জানান, হামলার লক্ষ্য ছিল জঙ্গিবাদবিরোধী শান্তি সমাবেশ। স্বাতের পুলিশ প্রধান ওমর খানও নিশ্চিত করেছেন যে নিহতদের মধ্যে একাধিক পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা মহলের প্রাথমিক সন্দেহের তির তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর দিকেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংগঠনটি বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনী এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এই হামলাকে নৃশংস সন্ত্রাসী আক্রমণা আখ্যা দিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
স্বাত উপত্যকা একসময় টিটিপির শক্ত ঘাঁটি ছিল। ২০০৭ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অভিযানে জঙ্গিদের বড় অংশকে সেখান থেকে হটিয়ে দেওয়া হলেও, গত কয়েক বছরে এলাকায় আবারও জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়েছে। ইসলামাবাদ বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের তালিবান সরকার টিটিপি জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। যদিও কাবুল এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে।