Home খবর সিজেপি আন্দোলন ‘রাষ্ট্রবিরোধী’, ‘কালপঞ্জি বিশ্লেষণ’ করার ডাক আরএসএস নেতার

সিজেপি আন্দোলন ‘রাষ্ট্রবিরোধী’, ‘কালপঞ্জি বিশ্লেষণ’ করার ডাক আরএসএস নেতার

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
8 views 2 minutes read
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: সাম্প্রতিক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র যন্তর মন্তরের আন্দোলনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘কেস স্টাডি’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে একে ‘সংবিধানবিরোধী’ এবং ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সহ-সরকার্যবাহ (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) অতুল লিময়ে

মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-র কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে লিময়ে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরে বামপন্থী সংগঠনগুলির প্রভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়েছে।

ড. ভীমরাও আম্বেদকরের ঐতিহাসিক ‘গ্রামার অব অ্যানার্কি’ বক্তৃতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ড. আম্বেদকর বহু আগেই নৈরাজ্যবাদীদের সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এখন সেই সতর্কবার্তার অর্থ বোঝার এবং জাতির পক্ষে ক্ষতিকর এই ধরনের শক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।”

লিময়ের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অন্যায়ের প্রতিকার চেয়েই ছাত্রদের আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু পরে তা “ভুল মানুষের হাতে” চলে যায়। তাঁর কথায়, “ছাত্রসমাজ স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় স্বার্থের পক্ষে থাকে। তাই ছাত্রশক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করা জরুরি। এবিভিপিকেই সেই উদ্যোগ নিয়ে ছাত্রদের জাতি গঠনের কাজে যুক্ত করতে হবে।”

আন্দোলনের ‘কালপঞ্জি’ বিশ্লেষণের আহ্বান

সিজেপি আন্দোলনকে গভীরভাবে বিশ্লেষণের আহ্বান জানিয়ে লিময়ে বলেন, “এই আন্দোলনকে একটি কেস স্টাডি হিসেবে দেখা উচিত। এর কালপঞ্জি, কর্মপদ্ধতি, কারা সমর্থন জুগিয়েছে এবং এর আদর্শগত ভিত্তি কী—সবকিছু বিশদে বিশ্লেষণ করতে হবে।”

তাঁর দাবি, সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে ভারতে ফিরে দেশজুড়ে সফর শুরু করলেও প্রথমদিকে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পাননি। কিন্তু ২০ জুনের পর আন্দোলন দ্রুত বিস্তৃত হয় এবং বিপুল জনসমর্থন অর্জন করে।

লিময়ে প্রশ্ন তোলেন, “দিপকের ভারতে ফেরার পর থেকে ২০ জুন পর্যন্ত কী ঘটেছিল? কী এমন পরিবর্তন হল যে আন্দোলনের গতিপথ বদলে গেল? কোন কোন সমর্থনকারী গোষ্ঠী এতে যুক্ত হল? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজে বের করা প্রয়োজন।”

তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানো অধিকাংশ সংগঠনই বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং তাদের অনেকেই ‘ভারত তেরে টুকড়ে টুকড়ে’ ধরনের স্লোগানের সঙ্গে যুক্ত।

যোগেন্দ্র যাদবের মন্তব্যের প্রসঙ্গ

আন্দোলন বোঝার জন্য রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদব-এর বক্তব্যও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান লিময়ে। তাঁর কথায়, “যোগেন্দ্র যাদব বলেছিলেন, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সংসদে নয়, রাস্তায় নির্ধারিত হবে; নির্বাচন নয়, আন্দোলনই দেশের ভবিষ্যৎ ঠিক করবে। এই মন্তব্যগুলিও বিশ্লেষণ করা দরকার।”

লিময়ের অভিযোগ, বামপন্থী সংগঠনগুলি আন্দোলনের নেতৃত্বে আসার পর তা মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে রাজনৈতিক রূপ নেয়।

আন্দোলনকারীদের আচরণ নিয়েও সমালোচনা

যন্তর মন্তরে আন্দোলনের সময় কিছু ছাত্র-ছাত্রীর ভাষা ও আচরণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আরএসএস নেতা। তাঁর দাবি, আন্দোলনস্থলে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ আধিকারিক তাঁকে জানিয়েছেন, সেখানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের, বিশেষ করে তরুণীদের ব্যবহৃত ভাষা ছিল অত্যন্ত আপত্তিকর।

লিময়ের কথায়, “তাদের আচরণ, ব্যবহার এবং অশালীন ভাষা আমাদের সভ্য সমাজ ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles