Home খবর বাঘের করিডরে তৃতীয় রেললাইন নির্মাণে নীতিগত ছাড়পত্র

বাঘের করিডরে তৃতীয় রেললাইন নির্মাণে নীতিগত ছাড়পত্র

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
11 views 2 minutes read
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: মধ্যপ্রদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাতপুরা–মেলঘাট বাঘ করিডরের মধ্যে দিয়ে তৃতীয় রেললাইন নির্মাণের প্রস্তাবে নীতিগত (স্টেজ–১) বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের ফরেস্ট অ্যাডভাইজরি কমিটি (FAC)। তবে এই অনুমোদন শর্তসাপেক্ষ। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত প্রকল্পে বনভূমির উপর কোনও কাজ শুরু করা যাবে না।

প্রস্তাবটি সেন্ট্রাল রেলের ইতারসি–নাগপুর ব্যস্ত রেলপথের জুঝারপুর–ধোদরামোহার অংশে তৃতীয় রেললাইন নির্মাণের। এই অংশটি সাতপুরা ও মেলঘাট টাইগার রিজার্ভের মধ্যে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণ করিডরের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। করিডরটি বাঘ ছাড়াও চিতাবাঘ, অলস ভালুক, হরিণসহ নানা প্রাণীর নিরাপদ চলাচলের পথ হিসেবে পরিচিত।

রেল মন্ত্রকের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮.০৩৫৭ হেক্টর বনভূমি অন্য কাজে ব্যবহার করতে হবে। পরিবেশ মন্ত্রকের ফরেস্ট অ্যাডভাইজরি কমিটি গত ১০ জুনের বৈঠকে বিষয়টি বিবেচনা করে নীতিগত বন অনুমোদন দিলেও জানিয়ে দিয়েছে, এটি চূড়ান্ত অনুমোদন নয়। প্রকল্পটি এগোতে হলে জাতীয় বন্যপ্রাণ পর্ষদের (National Board for Wildlife বা NBWL) স্থায়ী কমিটির কাছ থেকেও বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে ইতারসি–নাগপুর রুটের আরও দুটি সংশ্লিষ্ট অংশেরও বন্যপ্রাণ ছাড়পত্র পাওয়া বাধ্যতামূলক।

ইতারসি–নাগপুর রেলপথ দেশের অন্যতম ব্যস্ত মালবাহী ও যাত্রীবাহী করিডর। এটি দিল্লিকে চেন্নাই, সেকেন্দ্রাবাদ, বেঙ্গালুরু এবং তিরুবনন্তপুরমের সঙ্গে যুক্ত করা উচ্চ ঘনত্বের রাজধানি করিডরের অংশ। এই রুটে ট্রেন চলাচলের চাপ ক্রমাগত বাড়ায় অতিরিক্ত একটি লাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে মালবাহী ও যাত্রীবাহী ট্রেনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং যানজট কমে।

তবে প্রকল্পটি শুরু থেকেই পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের নজরে ছিল। কারণ, সাতপুরা–মেলঘাট করিডর মধ্য ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাঘ চলাচলের পথ। এই করিডর বিচ্ছিন্ন বনাঞ্চলগুলির মধ্যে সংযোগ বজায় রাখে এবং বাঘের জিনগত বৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রেললাইন বা সড়ক নির্মাণের ফলে এই ধরনের করিডর ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হতে পারে এবং দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ে।

এই আশঙ্কার কারণেই চলতি বছরের মার্চ মাসে জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ (NTCA), ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া, মধ্যপ্রদেশ বনদফতর এবং রেল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এলাকাটি পরিদর্শন করে। সেখানে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একাধিক ওভারপাস, আন্ডারপাস এবং অন্যান্য প্রশমন ব্যবস্থা (mitigation measures) নিয়ে আলোচনা হয়। যৌথ পরিদর্শনের পরে কিছু নকশাগত পরিবর্তনেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

এনটিসিএ-র কর্মকর্তাদের মতে, ইতারসি–নাগপুর এবং বল্লারশাহ–গোন্ডিয়া রেলপথে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বন্যপ্রাণ ট্রেনের ধাক্কায় মারা যায়। তাই নতুন রেললাইন নির্মাণের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই বৈজ্ঞানিকভাবে পরিকল্পিত বন্যপ্রাণ পারাপারের ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি। ওভারপাস ও আন্ডারপাস কার্যকরভাবে নির্মাণ করা গেলে প্রাণীরা রেললাইন অতিক্রম করতে পারবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেক কমবে।

পরিবেশ মন্ত্রকের স্টেজ–১ বন অনুমোদনের অর্থ হল, প্রকল্পটি নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু স্টেজ–২ বা চূড়ান্ত বন অনুমোদন এবং জাতীয় বন্যপ্রাণ পর্ষদের ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত বনভূমিতে কোনও নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে না। ফলে উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি এই প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles