বাংলাস্ফিয়ার: ভারতে ২০২৭ সালের জনগণনাকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো স্ব-নিবন্ধন (Self-enumeration) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ব্যবস্থায় নাগরিকেরা নির্দিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিজেদের পরিবারের তথ্য নিজেরাই জমা দিতে পারবেন। সরকারের দাবি, এর ফলে জনগণনা আরও দ্রুত, নির্ভুল ও স্বচ্ছ হবে। পাশাপাশি প্রচলিত গণনাকারীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন।
এই প্রেক্ষাপটে এক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জনগণনা ও নাগরিক পরিচয় প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের ফিরিয়ে পাঠানো হবে। এটা ভারতের দায়িত্ব নয় যে অন্য দেশের নাগরিকদের আশ্রয় দিয়ে যাবে।” তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, জনগণনার মাধ্যমে প্রকৃত বাসিন্দাদের সঠিক তথ্য নথিভুক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে যাঁরা বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছেন বলে প্রশাসনের কাছে প্রমাণ মিলবে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেশের সম্পদ, সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে নাগরিক ও অনাগরিকের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকা উচিত।
অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করেছে, জনগণনার মতো একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, ‘অনুপ্রবেশকারী’ চিহ্নিত করার প্রশ্নে নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হতে পারেন। সরকারের উচিত আইন ও সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া।
কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, ২০২৭ সালের জনগণনা হবে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল জনগণনা। স্ব-নিবন্ধনের সুযোগ থাকলেও যাঁরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করবেন না, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে সরকারি গণনাকারীরাই তথ্য সংগ্রহ করবেন। জনগণনার তথ্য দেশের পরিকল্পনা, উন্নয়ন, সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল স্ব-নিবন্ধন ব্যবস্থা জনগণনাকে আধুনিক ও সহজ করতে পারে, তবে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব, অভিবাসন এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলিকে জনগণনার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া থেকে পৃথক রাখার বিষয়েও সতর্কতা প্রয়োজন।
২০২৭ সালের জনগণনাকে ঘিরে তাই একদিকে যেমন প্রযুক্তিনির্ভর নতুন উদ্যোগের সূচনা হয়েছে, অন্যদিকে নাগরিক পরিচয়, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক বিতর্ক—সব মিলিয়ে বিষয়টি জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।