Table of Contents
লস অ্যাঞ্জেলেস: নেটফ্লিক্সের কার্যালয় থেকে হারিয়ে গেল নিকোলাস কেজ অভিনীত এখনও মুক্তি না পাওয়া একটি যুদ্ধভিত্তিক ছবির ডিজিটাল কপি। আর সেই হার্ড ড্রাইভ উধাও হওয়াকে কেন্দ্র করেই নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে ১০ কোটি ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলারের মামলা।
ছবিটির নাম ‘ফর্টিটিউড’—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে তৈরি একটি গুপ্তচর-কাহিনি। প্রায় ৪ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার বাজেটে তৈরি ছবিটির প্রযোজকদের অভিযোগ, নেটফ্লিক্সের গাফিলতির কারণেই ছবিটির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিপণন, মুক্তির পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য পুরস্কার-অভিযান—সবই এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
নেটফ্লিক্সের দায় কতটা?
অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে নেটফ্লিক্স। সংস্থার এক মুখপাত্রের দাবি, শিল্পে প্রচলিত নিরাপত্তা বিধি মেনে ছবিটি তাদের কাছে জমা দেওয়া হয়নি। তাই এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় সংস্থার উপর চাপানো যায় না।
তবে নেটফ্লিক্স বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখেনি। অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছবিটির কোনও কপি অনলাইনে ফাঁস হয়েছে কি না, তা নজরে রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কীভাবে হারাল ছবির কপি?
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের শেষ দিকে। ছবিটির প্রচারসামগ্রী দেখে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল নেটফ্লিক্স। সেই সূত্রেই চলতি বছরের জুনে সংস্থার অভ্যন্তরীণ প্রদর্শনের জন্য ‘ফর্টিটিউড’-এর একটি ডিজিটাল কপি পাঠানো হয়।
প্রযোজকদের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল—প্রদর্শন শেষ হলেই সেই কপি মুছে ফেলতে হবে।
কিন্তু তা আর হয়নি।
নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র অধিগ্রহণ বিভাগের প্রধান শন বার্নি একটি ই-মেলে জানিয়েছিলেন, সংস্থার ইতিহাসে এই ধরনের চুরির ঘটনা এই প্রথম। নিরাপত্তা দল তদন্ত চালালেও হারিয়ে যাওয়া হার্ড ড্রাইভের কোনও সন্ধান মেলেনি।
এর পরেই জলদস্যুতা ঠেকাতে নেটফ্লিক্সের সংশ্লিষ্ট দলকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়।
পুলিশে অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন
মামলায় আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে। প্রযোজকদের দাবি, হার্ড ড্রাইভ চুরির পর সংস্থাটি প্রথমে পুলিশে অভিযোগ করেছিল কি না, তা স্পষ্ট করেনি।
পরে প্রযোজকরাই নিজেদের উদ্যোগে অভিযোগ দায়ের করে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশকে তদন্তে যুক্ত করার অনুরোধ জানান। কিন্তু নেটফ্লিক্স সেই উদ্যোগে যথেষ্ট সহযোগিতা করেনি বলেও অভিযোগ মামলায়।
প্রযোজকদের বক্তব্য, এই অবহেলার ফলে তাঁদের প্রায় ৪ কোটি ৫০ লক্ষ ডলারের বিনিয়োগ বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, ছবিটির শিল্পমূল্য, বাজারমূল্য এবং অভিনেতা-অভিনেত্রী ও নির্মাতাদের প্রাপ্য স্বীকৃতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নিকোলাস কেজ থেকে বেন কিংসলে—তারকার মেলা
‘ফর্টিটিউড’ লন্ডনকে কেন্দ্র করে তৈরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক গুপ্তচর-কাহিনি। ছবিতে নিকোলাস কেজের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন ম্যাথিউ গুড, মাইকেল শিন এবং বেন কিংসলে।
ছবিটির পরিচালক সাইমন ওয়েস্ট। ‘টুম্ব রাইডার’ এবং ‘দ্য জেনারেলস ডটার’-এর মতো ছবির পরিচালনার জন্য পরিচিত তিনি।
প্রকল্পটির সঙ্গে একসময় যুক্ত ছিলেন মার্টিন স্করসেজিও। পরে ছবির প্রথমবারের চিত্রনাট্যকার সাইমন আফ্রাম অভিযোগ করেন, ছবির উন্নয়নের জন্য স্করসেজি ৫ লক্ষ ডলার নিয়েও সেই কাজ করেননি। স্করসেজির আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টির মীমাংসা হয়ে যায়।
‘এই ছবি শুধু আমার নয়’
চলচ্চিত্রটির নির্মাণযাত্রা নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করেছেন চিত্রনাট্যকার সাইমন আফ্রাম।
তাঁর বক্তব্য, এই সত্য ঘটনার চলচ্চিত্র রূপ দিতে তিনি জীবনের সাত বছর ব্যয় করেছেন। তবে ছবিটি শুধু তাঁর একার নয়। যাঁরা এতে অভিনয় করেছেন, তাঁদের কাজ দর্শকের কাছে পৌঁছনো এবং প্রাপ্য স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।
এখন সেই সুযোগই কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ভর করছে হারিয়ে যাওয়া হার্ড ড্রাইভের পরিণতি এবং মামলার ভবিষ্যতের উপর।
একটি ছবির মুক্তির আগেই তার ডিজিটাল কপি হারিয়ে যাওয়া—আর সেই ঘটনাকে ঘিরে ১০.৫ কোটি ডলারের মামলা—‘ফর্টিটিউড’-এর কাহিনিকে মুক্তির আগেই যেন বাস্তব জীবনের এক অপ্রত্যাশিত থ্রিলারে পরিণত করেছে।