International

হুথিদের চাপে লোহিত সাগর, বড় অভিযানের পথে সৌদি?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • রিয়াদ: লোহিত সাগরে হুথিদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে নিজেদের তেল রপ্তানির পথ সুরক্ষিত রাখতে বড়সড় সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব।
  • ইয়েমেনি সূত্রের দাবি, সমুদ্রপথে বহুজাতিক নিরাপত্তা জোট গঠনের পাশাপাশি ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্যও সেনা মোতায়েন নতুন করে সাজাচ্ছে রিয়াদ।
  • সূত্রগুলির দাবি, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে কিছু সেনা সরিয়ে মধ্যাঞ্চলে জড়ো করা হচ্ছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

রিয়াদ: লোহিত সাগরে হুথিদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে নিজেদের তেল রপ্তানির পথ সুরক্ষিত রাখতে বড়সড় সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। ইয়েমেনি সূত্রের দাবি, সমুদ্রপথে বহুজাতিক নিরাপত্তা জোট গঠনের পাশাপাশি ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্যও সেনা মোতায়েন নতুন করে সাজাচ্ছে রিয়াদ।

সূত্রগুলির দাবি, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে কিছু সেনা সরিয়ে মধ্যাঞ্চলে জড়ো করা হচ্ছে। এর নেপথ্যে হুথি-নিয়ন্ত্রিত আল-বায়দা প্রদেশে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২০-২১ সালে এই কৌশলগত অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথিরা।

১৪ দেশের সমর্থন, নজরে লোহিত সাগর

বৃহস্পতিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিশর, সুদান ও জিবুতি-সহ ১৪টি দেশ লোহিত সাগরে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগকে সমর্থন করেছে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও ইতালিকেও এই উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ।

লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অ্যাসপিডেস’ নৌ-অভিযান ইতিমধ্যেই সক্রিয়। তবে হুথিদের ঘোষিত অবরোধের আওতায় ঠিক কোন কোন জাহাজ পড়ছে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

ইরান-সমর্থিত হুথিরা গত ২০ জুলাই সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণা করে। তাদের দাবি, ইয়েমেনের ওপর সৌদি অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে তারাও সৌদি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। হুথিদের বক্তব্য, এই সংঘাত মূলত ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে, ইরানকে কেন্দ্র করে নয়।

তেলের পথেই বড় ঝুঁকি

এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানিতে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল রিয়াদ। তারপর থেকেই হুথিদের সঙ্গে সংঘাত চলছে।

গত ২৫ জুলাই হুথিরা দাবি করে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় তারা হামলা চালিয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, একদিকে হরমুজ প্রণালি অনিরাপদ হয়ে ওঠা এবং অন্যদিকে লোহিত সাগরেও সৌদি জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে রিয়াদের তেল রপ্তানিতে বড় ধাক্কা আসতে পারে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর আগে সৌদি আরবের প্রায় ৮০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি হতো। সেই পথ অনিরাপদ হয়ে পড়ায় বর্তমানে দেশের অর্ধেকেরও বেশি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে ইয়ানবু বন্দরে এনে লোহিত সাগর দিয়ে রপ্তানি করা হচ্ছে। ফলে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এখন সৌদির কাছে নিছক সামুদ্রিক নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়—দেশটির অর্থনীতি ও জ্বালানি রপ্তানির সঙ্গেও সরাসরি জড়িত।

ইরাকেও উত্তেজনা

এরই মধ্যে ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। সৌদি আরবের দাবি, তাদের তেল স্থাপনায় হামলার জবাবেই এই অভিযান চালানো হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরাকি সরকারের সম্মতিতেই হামলা চালানো হয়েছে। তবে বাগদাদ এই দাবি নিশ্চিত করেনি।

এর আগে বুধবার সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ওয়াশিংটনে ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সৌদি নেতৃত্বের অবস্থান, দেশের নিরাপত্তা ও জ্বালানি পরিকাঠামো রক্ষায় তারা কঠোর থাকবে, কিন্তু ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত আরও ছড়িয়ে দিতে চায় না। রিয়াদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ এখনও কূটনৈতিক পথে মেটানো সম্ভব।

ভাঙছে পুরনো নাজুক সমঝোতা?

গত দুই সপ্তাহে সৌদি আরব ও হুথিদের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। হুথিদের হামলার নিশানায় এসেছে সৌদি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনাও। পাল্টা জবাবে সৌদি বিমানবাহিনী হুথি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দরের একাধিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে লোহিত সাগরে আরও একটি সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সৌদি-হুথি সংঘাতের মধ্যে যে নাজুক স্থিতাবস্থা তৈরি হয়েছিল, গত এক মাসের ঘটনাপ্রবাহে তা কার্যত টলে গিয়েছে। এখন রিয়াদ সমুদ্রপথ সুরক্ষায় বহুজাতিক জোটের দিকে এগোচ্ছে, পাশাপাশি স্থল অভিযানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

হরমুজ খুললে কি কমবে উত্তেজনা?

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, উপসাগরীয় আরব দেশগুলি এবং ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা নিয়ে সমঝোতা হলে ইয়েমেনের পরিস্থিতিও কিছুটা শান্ত হতে পারে। বর্তমানে ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তবে ইরানের দাবি, ভবিষ্যতে সব জাহাজকে হরমুজ প্রণালির উত্তর দিক দিয়ে, অর্থাৎ ইরানের উপকূল ঘেঁষে চলাচল করতে হবে।

ফলে এখন নজর শুধু ইয়েমেনের মাটিতে নয়, লোহিত সাগর থেকে হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত গোটা জ্বালানি রুটেই। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে উত্তেজনা একসঙ্গে বাড়লে তার প্রভাব সৌদি আরব ছাড়িয়ে গোটা বিশ্ববাজারেও পড়তে পারে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles