Home খবর ইদি আমিনের নাতির বিতর্কিত বিদায়, প্রতিপক্ষকে মাথা দিয়ে আঘাত করায় অযোগ্য ঘোষিত

ইদি আমিনের নাতির বিতর্কিত বিদায়, প্রতিপক্ষকে মাথা দিয়ে আঘাত করায় অযোগ্য ঘোষিত

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
15 views 3 minutes read
A+A-
Reset

উগান্ডার প্রাক্তন স্বৈরশাসক ইদি আমিনের নাতি আজিজ আবদুল কমনওয়েলথ গেমসে সুপার হেভিওয়েট বক্সিংয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন। ইংল্যান্ডের ডামার থমাসের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে তৃতীয় রাউন্ডে প্রতিপক্ষকে ইচ্ছাকৃতভাবে মাথা দিয়ে আঘাত (হেড-বাট) করার কারণে তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করেন রেফারি।

এরপরই ক্ষুব্ধ আবদুল রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন এবং ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সামনেও ক্ষোভ উগরে দেন।

ঘটনার আরও অদ্ভুত মোড় আসে যখন তিনি এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করেন। কারণ জানতে চাইলে বলেন, “না, তোমার সঙ্গে কথা বলব না। তোমাকে আমার পছন্দ নয়।” পরে উগান্ডা দলের এক কর্মকর্তা জানান, ওই সাংবাদিক অতীতে তাঁর দাদু ইদি আমিন সম্পর্কে যা লিখেছিলেন, সেই কারণেই আবদুল তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাননি।

১৯৭১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে ইদি আমিন উগান্ডায় নির্মম শাসন কায়েম করেছিলেন। তাঁর শাসনামলে প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৮০ হাজার এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষকে দেশছাড়া করা হয়েছিল।

তবে ম্যাচের আগে ২৫ বছর বয়সি আবদুল বলেছিলেন, তাঁর দাদার কৃতিত্বই তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং তিনি দাদাকে নিয়ে গর্বিত। নিজের পরিচয় “আজিজ রিঙ্গো” হিসেবেও তুলে ধরে তিনি দাবি করেছিলেন, একদিন তিনিই “স্কটল্যান্ডের নতুন রাজা” হবেন। তাঁর এই মন্তব্য ছিল ইদি আমিনের সেই পুরনো দাবির প্রতি ইঙ্গিত, যেখানে তিনি একসময় স্কটল্যান্ডকে ইংল্যান্ডের হাত থেকে “মুক্ত” করার কথা বলেছিলেন।

ম্যাচে অবশ্য আবদুলের আক্রমণাত্মক বক্সিংয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় আসে তাঁর মাথা দিয়ে আঘাত করার ঘটনা। তৃতীয় রাউন্ডে স্কোরে ২০-১৬ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় তিনি প্রতিপক্ষের দিকে মাথা ঠেকিয়ে আঘাত করেন। এর পরই রেফারি তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করেন।

রায় মেনে নিতে রাজি ছিলেন না আবদুল। তাঁর অভিযোগ, প্রতিপক্ষ বারবার ধরে রাখা, কনুই দিয়ে আঘাত করা-সহ নানা ধরনের নিয়মভঙ্গ করলেও রেফারি তা উপেক্ষা করেছেন।

তিনি বলেন, “অনেক ফাউল হয়েছে। ধরে রাখা, কনুই মারা—সবই হয়েছে। অন্য দেশের কেউ করলে তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করা হতো। কিন্তু এখানে তা হয়নি। রেফারির সিদ্ধান্ত সঠিক নয়।”

প্রথম রাউন্ডে তাঁকে নকডাউন ধরা নিয়েও আপত্তি তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষের খুব হালকা ঘুষিতেই গণনা শুরু করা হয়েছিল, অথচ তিনি জোরালো আঘাত করলেও কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

আবদুল আরও বলেন, “আমি একজন কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান। কী হয়েছে, আমি জানি। এটা ঈশ্বরের ইচ্ছা। কর্মকর্তারা এই লড়াই নিয়ে এত ভয় পাচ্ছেন কেন? লড়াইটা চলতে দিলেই পারতেন।”

হেড-বাটের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রতিপক্ষ আগে কনুই দিয়ে আঘাত করেছিলেন এবং তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মাথা দিয়ে আঘাত করেননি।

তিনি বলেন, “আমি নকআউট করে জিততে চেয়েছিলাম। এটা আমার কাছে বিদেশের মাটিতে খেলা ছিল। পরের বার প্রথম মিনিটেই ম্যাচ শেষ করে দেব।”

ভবিষ্যতে আবার ডামার থমাসের মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন তিনি। তাঁর কথায়, “দুই বছর, পাঁচ বছর বা দশ বছর পরে—যখনই হোক, আমি ওকে হারাব। সবাইকে দেখিয়ে দেব আজিজ রিঙ্গো সত্যিকারের যোদ্ধা।”

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ডামার থমাস অযোগ্য ঘোষণার ফলে সেমিফাইনালে উঠে অন্তত একটি পদক নিশ্চিত করেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “যেভাবে জিততে চেয়েছিলাম, সেভাবে হয়নি। তবে কাজটা হয়ে গেছে। ও বারবার মাথা নিচু করে আমার দিকে আসছিল। দীর্ঘদিন পর রিংয়ে নামার প্রভাব কিছুটা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়টাই গুরুত্বপূর্ণ।”

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles