বাংলাস্ফিয়ার: কলকাতা হাইকোর্ট রায় দিয়েছে, ভোটার পরিচয়পত্র, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি, জমির রেকর্ড কিংবা নিকটাত্মীয়ের পাসপোর্ট—এগুলির কোনওটিই এককভাবে ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত ও অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
এক ব্যক্তির দায়ের করা হেবিয়াস করপাস মামলার আবেদন খারিজ করতে গিয়ে আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে। আবেদনকারীর দাবি ছিল, তাঁর ভাইপোকে ভুলবশত বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে।
আবেদনকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিউ (এসআইআর) চলাকালে প্রথমে ওই ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় “বিচারাধীন” হিসেবে রাখা হয় এবং পরে তা বাদ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁর আপিল এখনও বিচারাধীন। সেই আপিলের নিষ্পত্তি না করেই প্রশাসন তাঁকে আটক করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
আবেদনের সমর্থনে আটক ব্যক্তির ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি, পূর্বপুরুষদের জমির রেকর্ড এবং তাঁর পিসির পাসপোর্ট আদালতে পেশ করা হয়।
তবে বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, এই নথিগুলির কোনওটিই আটক ব্যক্তির ভারতীয় নাগরিকত্বকে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠা করে না।
আদালত স্পষ্ট করে জানায়, ভোটার পরিচয়পত্র কেবলমাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকার প্রমাণ; এটি নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। একইভাবে, আধার কার্ড, প্যান কার্ড কিংবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা—এসবও ভারতীয় নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
আদালত আরও জানায়, আটক ব্যক্তির পূর্বপুরুষদের জমির রেকর্ড বা তাঁর পিতৃকূলের এক আত্মীয়ার পাসপোর্টও তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়।
ডিভিশন বেঞ্চ পুনর্ব্যক্ত করে যে, প্রশাসন যদি কাউকে বিদেশি নাগরিক বলে দাবি করে, তাহলে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করার দায় সংশ্লিষ্ট আটক ব্যক্তির ওপরই বর্তায়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আবেদনকারী নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর অধীনে জন্মসূত্রে, বংশসূত্রে বা নিবন্ধনের মাধ্যমে আটক ব্যক্তির ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫ অনুযায়ী জারি হওয়া আটকাদেশে হস্তক্ষেপ করতে আদালত অস্বীকার করে এবং হেবিয়াস করপাস আবেদন খারিজ করে দেয়।