ফোল্ডেবল স্মার্টফোনকে পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি থেকে মূলধারায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে স্যামসাংয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এবার গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এর হাত ধরে সেই নেতৃত্বকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবি করছে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থাটি।
ফোল্ডেবল বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বীরা দ্রুত এগিয়ে আসার পর গত কয়েক বছরে স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল—নতুন মডেলগুলিতে বড়সড় পরিবর্তন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু জেড ফোল্ড ৮ সেই সমালোচনার জবাব দিতে তৈরি বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, নতুন এই ডিভাইস শুধু আগের মডেলের উন্নত সংস্করণ নয়; ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের অভিজ্ঞতাকেই আরও পরিণত করে তুলতে পারে।
পাতলা-হালকা, কিন্তু বড় অভিজ্ঞতা
নতুন মডেলের অন্যতম আকর্ষণ এর নকশা। আগের প্রজন্মের তুলনায় আরও পাতলা ও হালকা হওয়ার ফলে ফোনটি বহন করা সহজ। ভাঁজ করা অবস্থায় তুলনামূলক কম জায়গা নেয়, ফলে পকেট বা ছোট ব্যাগেও রাখা যায়।
আর ফোন খুললেই বদলে যায় পুরো অভিজ্ঞতা। বড় ডিসপ্লে কার্যত ট্যাবলেটের মতো কাজের জায়গা তৈরি করে। ফলে একই ডিভাইসে বিনোদন থেকে শুরু করে অফিসের কাজ—দুটিই করা যায় স্বচ্ছন্দে।
মাল্টিটাস্কিংয়ে আসল সুবিধা
ফোল্ডেবলের সবচেয়ে বড় যুক্তি শুধু বড় স্ক্রিন নয়, সেই স্ক্রিনকে কাজে লাগানোর ক্ষমতা। একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো, ভিডিও দেখার পাশাপাশি নোট নেওয়া, ডকুমেন্ট সম্পাদনা কিংবা অফিসের কাজ—সবকিছুতেই বড় ডিসপ্লে বাড়তি সুবিধা দেয়।
উন্নত সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন এবং শক্তিশালী প্রসেসরের সঙ্গে এই বড় স্ক্রিনের সমন্বয় জেড ফোল্ড ৮-কে শুধুমাত্র একটি স্মার্টফোনের বদলে উৎপাদনশীলতার ডিভাইস হিসেবেও তুলে ধরতে পারে।
ভাঁজের দাগ, কবজা—উন্নতি কোথায়?
ফোল্ডেবল ফোনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় প্রশ্ন ছিল স্থায়িত্ব। ডিসপ্লের মাঝখানে ভাঁজের দাগ, কবজার নির্ভরযোগ্যতা এবং বারবার খোলা-বাঁধার পর ফোন কতটা টেকসই থাকবে—এসব নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে সংশয় ছিল।
জেড ফোল্ড ৮-এ সেই অভিজ্ঞতাকে আরও পরিণত করার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। ভাঁজের দাগ কম দৃশ্যমান হওয়া, উন্নত কবজা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের দিকে জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে ফোল্ডেবল ফোনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে পুরনো আশঙ্কাগুলি অনেকটাই কমতে পারে।
ফোল্ডেবল কি এবার মূলধারায়?
ফোল্ডেবল স্মার্টফোন এখনও প্রিমিয়াম দামের কারণে সবার নাগালের মধ্যে নয়। কিন্তু প্রযুক্তির বিবর্তন বলছে, এই ফর্ম ফ্যাক্টর আর নিছক পরীক্ষামূলক কোনও ধারণা নয়।
জেড ফোল্ড ৮-এর মতো ডিভাইস দেখিয়ে দিচ্ছে, স্মার্টফোনের ভবিষ্যৎ হয়তো শুধু আরও শক্তিশালী প্রসেসর বা আরও ভালো ক্যামেরায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং একটি ফোন কতটা বড় স্ক্রিনে রূপান্তরিত হতে পারে এবং সেই অতিরিক্ত জায়গা কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে, গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮কে শুধু আরেকটি ফোল্ডেবল ফোন হিসেবে দেখলে হয়তো এর গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখা হবে। নকশা, বহুমুখী ব্যবহার এবং সফটওয়্যার অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এটি ফোল্ডেবল প্রযুক্তিকে আরও পরিণত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দাবি করছে।
এখন দেখার, স্যামসাংয়ের এই নতুন মানদণ্ডের সঙ্গে পাল্লা দিতে প্রতিদ্বন্দ্বীরা কত দ্রুত নিজেদের ফোল্ডেবল প্রযুক্তিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।