বাংলাস্ফিয়ার: বহুল আলোচিত নীট (NEET) প্রশ্নফাঁস মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) আদালতে চার্জশিট জমা দিয়ে জানিয়েছে, তদন্তে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার বা জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ)-র কোনও উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সরাসরি যোগসাজশের প্রমাণ মেলেনি। তদন্তকারীদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মূল ভূমিকা ছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্রের, যারা পরীক্ষার আগে হাতে লেখা নোট ও প্রশ্নোত্তরের অনুলিপি তৈরি করে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল।

সিবিআই সূত্রের দাবি, তদন্তে উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা নোট, মোবাইল ফোনের তথ্য, হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা এবং আর্থিক লেনদেনের নথি বিশ্লেষণ করে এই চক্রের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলেছে। চার্জশিটে বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগেই নির্দিষ্ট কয়েকজনের হাতে পৌঁছেছিল এবং তা থেকে দ্রুত হাতে লেখা উত্তরপত্র ও সম্ভাব্য প্রশ্নের তালিকা তৈরি করা হয়। পরে সেই নোট বিভিন্ন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বিতরণ করা হয়।

তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিভিন্ন রাজ্যে সক্রিয় দালালচক্রের সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়েরও প্রমাণ মিলেছে। সিবিআই জানিয়েছে, এই চক্রটি বহুদিন ধরেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে লক্ষ্য করে কাজ করছিল এবং নীট পরীক্ষায়ও একই কৌশল প্রয়োগ করা হয়।

চার্জশিটে সরকারের ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলছিল, সে প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সিবিআই বলেছে, এখনও পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক বা এনটিএ-র শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত এখানেই শেষ নয়। নতুন তথ্য বা প্রমাণ সামনে এলে পরবর্তী সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে বলেও তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে।

এই মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, সরকারি গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে ডিজিটাল তথ্য, ব্যাংক লেনদেন এবং কল রেকর্ড বিশ্লেষণ অব্যাহত রয়েছে।

নীট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাসে দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক, ছাত্র বিক্ষোভ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিরোধী দলগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি দাবি করলেও সিবিআইয়ের এই চার্জশিটে তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি স্তরে যোগসাজশের প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তদন্তকারীরা স্পষ্ট করেছেন, মামলার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নতুন তথ্য সামনে এলে সংশ্লিষ্ট যে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে নীট প্রশ্নফাঁস মামলার আইনি লড়াই এখনও শেষ হয়নি; বরং চার্জশিট জমা পড়ার পর বিচারপর্বে এই মামলার নতুন অধ্যায় শুরু হল।