Home খবর মসজিদের বাইরে পূজা, ভিতরে ‘শিবলিঙ্গ’ অনুসন্ধানের দাবি: বাংলায় নতুন ধর্মীয় বিতর্ক

মসজিদের বাইরে পূজা, ভিতরে ‘শিবলিঙ্গ’ অনুসন্ধানের দাবি: বাংলায় নতুন ধর্মীয় বিতর্ক

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
13 views 3 minutes read
A+A-
Reset

পশ্চিমবঙ্গে একটি প্রাচীন মসজিদকে ঘিরে নতুন করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। মসজিদের বাইরে নিয়মিত প্রার্থনা ও পূজা শুরু হয়েছে, আর এর মধ্যেই এক বিজেপি নেতা দাবি তুলেছেন যে মসজিদের ভিতরে শিবলিঙ্গের অস্তিত্ব খুঁজে বের করতে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালানো হোক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা বাড়লেও প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মসজিদটি বহু শতাব্দী প্রাচীন এবং দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম সম্প্রদায়ের উপাসনাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি কয়েকটি হিন্দু সংগঠন দাবি করতে শুরু করেছে যে মসজিদটি একটি প্রাচীন শিবমন্দিরের ধ্বংসাবশেষের উপর নির্মিত। সেই দাবির সমর্থনে মসজিদের বাইরে প্রার্থনা ও পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।

এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন এক বিজেপি নেতা। তিনি জানিয়েছেন, আদালতের অনুমতি নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মসজিদের ভিতরে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা উচিত, সেখানে কোনও শিবলিঙ্গ বা মন্দিরের চিহ্ন রয়েছে কি না। তাঁর বক্তব্য, “ঐতিহাসিক সত্য সামনে আসা উচিত। যদি কোনও প্রাচীন মন্দিরের অস্তিত্ব থেকে থাকে, তবে তা জানা দেশের মানুষের অধিকার।”

অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে ধর্মীয় স্থাপনাগুলিকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে, এটিও তারই অংশ। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম চলা একটি মসজিদকে ঘিরে এ ধরনের দাবি সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে ক্ষতিকর।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনও পক্ষ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয় সম্প্রদায়ের মানুষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, উপাসনাস্থল সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে Places of Worship (Special Provisions) Act, 1991গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই আইন অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট যে ধর্মীয় স্থাপনার যে চরিত্র ছিল, তা পরিবর্তনের চেষ্টা করা যায় না। যদিও অযোধ্যা-বিতর্ক এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল, অন্য ক্ষেত্রে আইনটি কার্যকর রয়েছে। ফলে আদালতের নির্দেশ ছাড়া কোনও ধরনের খনন বা সমীক্ষা করা সম্ভব নয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ-মন্দির বিতর্ক আদালতে পৌঁছেছে। বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদ, মথুরার শাহী ঈদগাহসহ একাধিক ধর্মীয় স্থাপনাকে ঘিরে আইনি লড়াই এখনও চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের এই ঘটনাও রাজনৈতিক ও আইনি দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনাকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক পরিবেশেও পড়তে পারে। বিরোধীরা অভিযোগ করছে, ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, ঐতিহাসিক সত্য উদ্ঘাটনের দাবি কোনওভাবেই সাম্প্রদায়িক নয়।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আদালতে কোনও নির্দেশ জারি হয়নি। প্রশাসন পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছে এবং ভবিষ্যতের আইনি পদক্ষেপের উপরই নির্ভর করবে বিতর্কের পরবর্তী দিক। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে আইন, ইতিহাস এবং সামাজিক সম্প্রীতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles