Table of Contents
বিশ্বকাপ শেষ হতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চ থেকেও বিদায় নিয়েছেন একঝাঁক তারকা। জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারথেকে শুরু করে ব্রাজিলের সুপারস্টার নেইমার—২০২৬ বিশ্বকাপই হয়ে রইল তাঁদের জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ আসর। কেউ বিদায় নিয়েছেন গৌরবের স্মৃতি নিয়ে, কেউ বা অপূর্ণ স্বপ্ন বুকে নিয়েই।
ম্যানুয়েল নয়্যার (জার্মানি, ৪০)
২০১০ বিশ্বকাপে অভিষেক, ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়—জার্মান ফুটবলের এক যুগের প্রতীক ছিলেন নয়্যার। ইউরো ২০২৪–এর পর অবসর ঘোষণা করলেও বিশ্বকাপের আগে সিদ্ধান্ত বদলান। তবে প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হারের পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন। তাঁর মোট বিশ্বকাপ ম্যাচ ২৩টি। পরে বলেন, ‘শেষটা তিক্ত হলেও ফিরে আসার সিদ্ধান্তের জন্য আমার কোনও আফসোস নেই।’
প্যাট্রিক শিক (চেকিয়া, ৩০)
প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেই বিদায়। ইউরো ২০২০–এ আলোড়ন তোলা এই স্ট্রাইকার ২০২৬ বিশ্বকাপে গোল পাননি। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবসরের ঘোষণা দেন। তাঁর কথায়, ‘আজ জাতীয় দলের সঙ্গে আমার অধ্যায় শেষ হলো।’
গিয়ের্মো ওচোয়া (মেক্সিকো, ৪১)
২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে অসাধারণ গোলকিপিং করে কিংবদন্তির মর্যাদা পান। এবার খেলেছেন মাত্র ১২ মিনিট, কিন্তু মাঠে নামতেই সতীর্থ ও সমর্থকদের আবেগে ভেসে যান। বিদায়বেলায় লেখেন, ‘মেক্সিকোর প্রতিনিধিত্ব করা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।’
রিয়াদ মাহরেজ (আলজেরিয়া, ৩৫)
২০১৪–এর পর দীর্ঘ ১২ বছর অপেক্ষা করে আবার বিশ্বকাপে ফেরেন। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দুটি গোল করলেও শেষ ৩২–এ সুইৎজারল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায়। মাহরেজ বলেন, ‘শৈশবের স্বপ্ন ছিল আলজেরিয়ার হয়ে খেলা। এই গর্ব ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’
এনার ভ্যালেন্সিয়া (ইকুয়েডর, ৩৬)
২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ছয় গোল করা ইকুয়েডরের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবার আর জালের দেখা পাননি। মেক্সিকোর কাছে হারের পরই ঘোষণা করেন, জাতীয় দলের হয়ে এটাই ছিল তাঁর শেষ ম্যাচ।
নিকোলাস ওতামেন্দি (আর্জেন্টিনা, ৩৮)
২০১০ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক, ২০২২ সালে বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম স্তম্ভ। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, এটাই তাঁর শেষ আসর। প্রায় সব ম্যাচেই খেলেছেন। বিদায় উপলক্ষে তাঁর শেষ ঘরের ম্যাচে লিওনেল মেসি পেনাল্টি নিতে দিয়ে গোল করার সুযোগ করে দেন।
মার্কো আর্নাউটোভিচ (অস্ট্রিয়া, ৩৭)
এটাই ছিল তাঁর প্রথম এবং শেষ বিশ্বকাপ। দুটি গোল করে দলকে শেষ ৩২–এ তুললেও স্পেনের কাছে হেরে বিদায়। আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘অস্ট্রিয়ার হয়ে খেলাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’
সাদিও মানে (সেনেগাল, ৩৪)
২০১৮ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন, ২০২২–এ চোটের কারণে অনুপস্থিত ছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর একটি বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান। যদিও সেই বিবৃতির সত্যতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। সেনেগালের কোচ অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাঁরা এখনও মানেকে দলে দেখতে চান।
ক্রেগ গর্ডন (স্কটল্যান্ড, ৪৩)
২০০৪ সালে অভিষেক হলেও প্রথম বিশ্বকাপে এক মিনিটও মাঠে নামার সুযোগ পাননি। ৮৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই ক্ষেত্র থেকেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।
জ্যাঁ মিশেল সেরি (আইভরি কোস্ট, ৩৫)
১১ বছর জাতীয় দলের হয়ে খেলার পর প্রথম বিশ্বকাপেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন। ৬৪টি ম্যাচ খেলা এই মিডফিল্ডারকে সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান সতীর্থ ও অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসিয়ে।
নেইমার (ব্রাজিল, ৩৪)
২০১৪ বিশ্বকাপে দুই গোল করে বিশ্বমঞ্চে নিজের ছাপ রেখেছিলেন। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে চোটের কারণে মাত্র ৫৫ মিনিট খেলেই ব্রাজিলের বিদায় দেখতে হয়। নরওয়ের কাছে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান। তাঁর কথায়, ‘যাত্রা শুরু হয়েছিল এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই, শেষও হলো এখানেই। এখন সব শেষ।’ ব্রাজিলের এই কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ বলেন, ‘অসাধারণ প্রতিভা। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের জন্য সত্যিই এক দুঃখের মুহূর্ত।’