হাইলাইটস
- কানাডার অধিকাংশ পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে অনড় ট্রাম্প।
- মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া কানাডার “টিকে থাকার কোনও উপায় নেই”।
- পাল্টা বার্তা কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির—“চাপের মুখেও কানাডা ঐক্যবদ্ধ।”
- শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে আলোচনার জন্য দুই দেশকে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
- মদ, হকি স্টিক, সিমেন্ট-সহ একাধিক পণ্য নতুন শুল্কের আওতায় আসতে পারে।
কানাডার বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক চাপ আরও বাড়ানোর পথে হাঁটলেও নিজের অবস্থান থেকে সরছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডার অধিকাংশ পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করে তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া কানাডার টিকে থাকা কার্যত অসম্ভব।
মঙ্গলবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “কানাডা বহু বছর ধরে আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত কঠোর আচরণ করেছে। আগের কোনও প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেননি। সত্যি বলতে, তারা আমাদের ছাড়া টিকে থাকতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে তাদের বেঁচে থাকার কোনও উপায় নেই।”
হোয়াইট হাউস সোমবার নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। আগামী মাস থেকে তা কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে এক মাস সময় রাখা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, কানাডা মার্কিন গাড়ি, মদ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক বাণিজ্যনীতি অনুসরণ করছে। সেই কারণেই নতুন করে শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের কড়া বার্তার মধ্যেও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, “এই ধরনের চাপের মুখেও কানাডা ঐক্যবদ্ধ। আগামী কয়েক সপ্তাহে আলোচনা আরও জোরদার করতে আমরা সম্মত হয়েছি।”
নতুন শুল্কের আওতায় মদ, হকি স্টিক, সিমেন্ট-সহ একাধিক পণ্য আসতে পারে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা USMCA-এর আওতায় এতদিন শুল্কমুক্ত থাকা কিছু পণ্যও এবার করের মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
কানাডাকে ঘিরে ট্রাম্পের ক্ষোভ অবশ্য শুধু বাণিজ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সম্প্রতি উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়েও তিনি সরব হয়েছিলেন। গত সপ্তাহে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কানাডার অবহেলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। তাঁর দাবি ছিল, সেই দূষণের মূল্যও কানাডাকে শুল্কের মাধ্যমে দিতে হবে।
তবে মঙ্গলবার ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন, দাবানল ও ধোঁয়া নিয়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিষয়টি তাঁর প্রশাসন আলাদাভাবে বিবেচনা করছে। অর্থাৎ, বর্তমানে ঘোষিত ৫০ শতাংশ শুল্ক সরাসরি ওই পরিবেশগত ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত নয়।
একদিকে ট্রাম্পের ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া কানাডা টিকবে না’ মন্তব্য, অন্যদিকে কার্নির ‘কানাডা ঐক্যবদ্ধ’ বার্তা—দুই প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্যিক টানাপোড়েন এখন নতুন করে উত্তপ্ত। আগামী কয়েক সপ্তাহের আলোচনাই ঠিক করবে, ৫০ শতাংশ শুল্ক বাস্তবে কার্যকর হবে, নাকি শেষ মুহূর্তে কোনও সমঝোতার পথ খুলবে।