Home খবর বাংলায় ৭০০ কোটির আমুল প্রকল্প, ‘সোনার বাংলা’র বার্তা শাহর

বাংলায় ৭০০ কোটির আমুল প্রকল্প, ‘সোনার বাংলা’র বার্তা শাহর

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
85 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • বাংলায় ৭০০ কোটি টাকার আমুল দুগ্ধ প্রকল্পের সূচনা করলেন অমিত শাহ।
  • কৃষক ও দুগ্ধচাষীদের আয় বাড়ানোর উপর জোর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।
  • দুধ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও মূল্য সংযোজিত দুগ্ধপণ্য উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য।
  • ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে রাজ্য সরকারকেও আক্রমণ।
  • গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় প্রভাবের আশা কেন্দ্রের।

পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে উন্নয়ন ও রাজনীতির বার্তা একসঙ্গে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আমুলের নতুন দুগ্ধ প্রকল্পের সূচনা করে তিনি ফের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এই প্রকল্প শুধু দুগ্ধশিল্পের পরিকাঠামোই শক্তিশালী করবে না, হাজার হাজার কৃষক ও দুগ্ধচাষীর আয় বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অমিত শাহ বলেন, প্রকৃত উন্নয়নের ভিত্তি হল গ্রামের অর্থনীতি। আর সেই অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কৃষক ও দুগ্ধচাষীদের ক্ষমতায়ন জরুরি। তাঁর কথায়, আমুলের এই বিনিয়োগ একটি কারখানা তৈরির প্রকল্প নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন গতি দেওয়ার উদ্যোগ।

নতুন প্রকল্পে আধুনিক দুধ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং মূল্য সংযোজিত বিভিন্ন দুগ্ধপণ্য তৈরির ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে স্থানীয় দুধ উৎপাদকদের জন্য স্থায়ী বাজার তৈরি হবে এবং কৃষকদের আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে কেন্দ্রের আশা। পাশাপাশি কোল্ড চেন, পরিবহণ, প্যাকেজিং এবং লজিস্টিকস ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়বে।

সমবায় মডেলের সাফল্যের কথা তুলে ধরে শাহ বলেন, গুজরাতে আমুল লক্ষ লক্ষ কৃষকের জীবনে পরিবর্তন এনেছে। সেই অভিজ্ঞতাকেই এবার পশ্চিমবঙ্গে কাজে লাগানো হবে। তাঁর মতে, সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকদের শুধু উৎপাদক নয়, উদ্যোক্তা হিসেবেও গড়ে তোলা সম্ভব।

উন্নয়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও দিতে ভোলেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের গতি মন্থর ছিল এবং বিনিয়োগের পরিবেশও অনুকূল ছিল না। কেন্দ্র কৃষি, সমবায়, অবকাঠামো, রেল এবং জাতীয় সড়ক খাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

‘সোনার বাংলা’ প্রসঙ্গে শাহ বলেন, এটি শুধুই রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং এমন একটি বাংলা গড়ার লক্ষ্য যেখানে কৃষক, শ্রমিক, যুবক ও মহিলারা সমানভাবে উন্নয়নের সুফল পাবেন। তাঁর মতে, কৃষি, শিল্প, সমবায় এবং অবকাঠামোর সমন্বিত বিকাশই বাংলার ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।

বর্তমানে আমুল পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৩ লক্ষ লিটার দুধ সংগ্রহ করে। নতুন ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প চালু হলে সেই পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারিত হবে এবং পূর্ব ভারতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে বাংলাকে গড়ে তোলার লক্ষ্য আরও জোরদার হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিনিয়োগ সফল হলে শুধু দুগ্ধচাষীরাই নন, পশুপালন, পশুখাদ্য, কোল্ড স্টোরেজ, পরিবহণ, লজিস্টিকস এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষও উপকৃত হতে পারেন। তবে প্রকল্পের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে স্থানীয় কৃষকদের অংশগ্রহণ, দুধ সংগ্রহের নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার উপর।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়নের বার্তার পাশাপাশি ‘সোনার বাংলা’ স্লোগানকে ফের সামনে এনে আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের দিকনির্দেশও স্পষ্ট করে দিলেন অমিত শাহ। এখন নজর, এই প্রকল্প কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং তার সুফল কতটা পৌঁছায় বাংলার কৃষক ও দুগ্ধচাষীদের কাছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles