হাইলাইটস:
- সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অবৈধ ঘোষিত আমদানি শুল্ক বাবদ ইতিমধ্যেই ৮১ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়েছে মার্কিন সরকার।
- গত অর্থবছরের একই সময়ে ফেরতের পরিমাণ ছিল মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার।
- ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্কনীতির বড় অংশকে বেআইনি বলে রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।
- শুল্ক থেকে আয় কমে যাওয়ায় ফের বাড়তে শুরু করেছে মার্কিন বাজেট ঘাটতি।
নিজস্ব প্রতিবেদন: মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অতিরিক্ত আমদানি শুল্কের বড় অংশকে বেআইনি ঘোষণার পর ব্যবসায়িক সংস্থাগুলিকে বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরত দিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সোমবার প্রকাশিত সরকারি বাজেটের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৮১ বিলিয়ন ডলার শুল্ক ফেরত দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার।
আমদানি শুল্ক ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। ক্ষমতায় ফিরে তিনি বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর একাধিক অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ওই অতিরিক্ত শুল্কের বড় অংশ আইনি ভিত্তিহীন। এর ফলে সরকারকে সেই অর্থ আমদানিকারক সংস্থাগুলিকে ফেরত দিতে হচ্ছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ই চলতি বছরে শুল্ক ফেরতের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির মূল কারণ। ফেরতের বড় অংশই মে ও জুন মাসে দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি ছিল, উচ্চ আমদানি শুল্কের মাধ্যমে উৎপাদন শিল্পকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তিতে ভালো শর্ত আদায় এবং ফেডারেল বাজেট ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে। অতিরিক্ত শুল্ক থেকে রাজস্ব বাড়ায় গত বছর বাজেট ঘাটতি কিছুটা কমেছিল। তবে বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হওয়ায় সেই ঘাটতি আবার বাড়ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে মার্কিন বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১.৩৬৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে সরকারি ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা এক বছরে ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে সামরিক ব্যয়ও ৫ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে বর্তমানে কার্যকর থাকা ১০ শতাংশের অস্থায়ী বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক আগামী ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা। তবে হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, বিভিন্ন দেশে জোরপূর্বক শ্রম রোধে প্রচলিত আইন যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে না। পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে। সেই কারণেই নতুন শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।