খবর

গোপন প্রযুক্তি চুরির অভিযোগে ওপেনএআইকে আদালতে টানল অ্যাপল

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • হাইলাইটস: বাণিজ্যিক গোপন তথ্য ও অপ্রকাশিত প্রযুক্তি চুরির অভিযোগে ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করল অ্যাপল।
  • অভিযোগ, অ্যাপলের প্রাক্তন কর্মীদের মাধ্যমে হার্ডওয়্যার-সংক্রান্ত গোপন তথ্য সংগ্রহ করেছে ওপেনএআই।
  • ওপেনএআই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, অন্য প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্যের প্রতি তাদের কোনও আগ্রহ নেই।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

হাইলাইটস:

  • বাণিজ্যিক গোপন তথ্য ও অপ্রকাশিত প্রযুক্তি চুরির অভিযোগে ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করল অ্যাপল।
  • অভিযোগ, অ্যাপলের প্রাক্তন কর্মীদের মাধ্যমে হার্ডওয়্যার-সংক্রান্ত গোপন তথ্য সংগ্রহ করেছে ওপেনএআই।
  • ওপেনএআই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, অন্য প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্যের প্রতি তাদের কোনও আগ্রহ নেই।

প্রযুক্তি বিশ্বের দুই শীর্ষ সংস্থার সম্পর্ক এবার আদালতের দোরগোড়ায়। অপ্রকাশিত প্রযুক্তি, গবেষণা এবং পণ্য-সংক্রান্ত বাণিজ্যিক গোপন তথ্য চুরির অভিযোগে ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে অ্যাপল

শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা ৪১ পাতার মামলায় অ্যাপলের অভিযোগ, নিজেদের ভোক্তামুখী হার্ডওয়্যার ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে ওপেনএআই পরিকল্পিতভাবে অ্যাপলের কর্মীদের নিয়োগ করেছে এবং তাঁদের মাধ্যমে সংস্থার গোপন প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে।

সহযোগিতা থেকে আদালত

এই মামলা দুই সংস্থার সম্পর্কের নাটকীয় অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২৪ সালে অ্যাপলের বিভিন্ন পণ্যে চ্যাটজিপিটি সংযুক্ত করার জন্য দুই সংস্থা অংশীদারিত্বে গিয়েছিল। কিন্তু সেই সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পরে নানা বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। গত মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, অ্যাপল চ্যাটজিপিটি সংযুক্তিকরণ যথাযথভাবে প্রচার করেনি বলে ওপেনএআই-ও আইনি পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছিল।

কী অভিযোগ অ্যাপলের?

মামলায় অ্যাপলের দাবি, প্রযুক্তিগত কর্মী থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ হার্ডওয়্যার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ওপেনএআই সংস্থার বাণিজ্যিক গোপন তথ্য এবং গোপন নথি আত্মসাৎ করেছে।

অ্যাপলের ভাষায়, “প্রযুক্তিগত কর্মী থেকে শুরু করে প্রধান হার্ডওয়্যার কর্মকর্তা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে এবং ব্যবসায়িক অংশীদারদের সহযোগিতায় ওপেনএআই আমাদের বাণিজ্যিক গোপন তথ্য সংগ্রহ করেছে।”

সংস্থাটির দাবি, এই তথ্য ব্যবহার করে ওপেনএআই নিজেদের নতুন হার্ডওয়্যার ব্যবসার ভিত গড়ে তুলতে চাইছে।

ওপেনএআই-এর জবাব

অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ওপেনএআই।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, “অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক গোপন তথ্যের প্রতি আমাদের কোনও আগ্রহ নেই। আমরা এমন প্রযুক্তি তৈরি করতেই মনোযোগী, যা বিশ্বজুড়ে মানুষের উপকারে আসে।”

কারা রয়েছেন মামলায়?

ওপেনএআই ছাড়াও মামলায় নাম রয়েছে—

  • হার্ডওয়্যার সহযোগী প্রতিষ্ঠান io Products,
  • অ্যাপলের প্রাক্তন কর্মকর্তা ও বর্তমানে ওপেনএআই-এর প্রধান হার্ডওয়্যার কর্মকর্তা ট্যাং ইউ ট্যান,
  • এবং প্রকৌশলী চ্যাং লিউ

ট্যাং ইউ ট্যান প্রায় ২৪ বছর অ্যাপলে কর্মরত ছিলেন। আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচের পণ্য নকশা বিভাগের সহ-সভাপতি হিসেবে কাজ করার পর তিনি ডিজাইনার জনি আইভের সঙ্গে io Products প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০২৫ সালে ওপেনএআই প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলারে সেই সংস্থাটি অধিগ্রহণ করে।

নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই গোপন তথ্য সংগ্রহ?

অ্যাপলের অভিযোগ, নিয়োগ সাক্ষাৎকারের সময় ট্যাং ইউ ট্যান ইচ্ছাকৃতভাবে অ্যাপলের গোপন প্রকল্পগুলির সাংকেতিক নাম ব্যবহার করে প্রার্থীদের কাছ থেকে এখনও প্রকাশ না হওয়া পণ্যের তথ্য জানার চেষ্টা করতেন।

এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ব্যাটারি, সার্কিট বোর্ডসহ বিভিন্ন হার্ডওয়্যার উপাদান সাক্ষাৎকারে নিয়ে আসতে বলা হতো, যাতে সেগুলি দেখিয়ে আলোচনা করা যায়।

মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে ওপেনএআই-এর প্রায় ৪০০ কর্মী আগে অ্যাপলে কাজ করতেন।

আদালতের কাছে কী চাইছে অ্যাপল?

অ্যাপল শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণই চায়নি। সংস্থাটি আদালতের কাছে এমন নির্দেশও চেয়েছে, যাতে ওপেনএআই কোনওভাবেই অ্যাপলের গোপন প্রযুক্তি বা বাণিজ্যিক তথ্য ব্যবহার করতে না পারে।

অ্যাপলের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই তারা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু ওপেনএআই সেই অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব দেয়নি।

বড় ধাক্কার আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা ওপেনএআই-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সংস্থাটি বহু প্রতীক্ষিত শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ভোক্তামুখী হার্ডওয়্যার ব্যবসাকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে অ্যাপলের অভিযোগ, “ওপেনএআই-এর নতুন হার্ডওয়্যার ব্যবসার ভিত্তিই দুর্বল, কারণ সেটি বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করা বাণিজ্যিক গোপন তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।”

এখন এই বহুল আলোচিত মামলায় আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে, অভিযোগের কতটা সত্যতা রয়েছে এবং প্রযুক্তি দুনিয়ার এই দুই জায়ান্টের সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles