হাইলাইটস:

  • শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় মিশরের।
  • দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারিং সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানাল মিশরীয় ফুটবল ফেডারেশন।
  • কোচ হোসাম হাসানের অভিযোগ, ‘মিশরের সঙ্গে অবিচার হয়েছে, জেতার যোগ্য ছিলাম আমরা।’
  • ভিডিও সহকারী রেফারি (VAR)-এর ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মিশর।
  • বিতর্ক সত্ত্বেও ইতিহাস গড়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের নক-আউটে জয় ও শেষ আটের লড়াই পর্যন্ত পৌঁছেছিল মিশর।

বাংলাস্ফিয়ার: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে নাটকীয় হারের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছে মিশর। শুধু দলের কোচই নন, সরাসরি ম্যাচ পরিচালনার নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে মিশরীয় ফুটবল ফেডারেশন। তাদের অভিযোগ, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং ভিডিও সহকারী রেফারি সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ করেননি, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ম্যাচের ফলাফলে।

ম্যাচের শুরুতেই ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। দ্বিতীয়ার্ধে মুস্তাফা জিকো দুর্দান্ত এক আক্রমণের শেষে বল জালে জড়ালেও ভিডিও পর্যালোচনার পর গোল বাতিল করে দেন রেফারি। তাঁর মতে, গোলের আগে বিল্ড-আপে মারওয়ান আতিয়া ফাউল করেছিলেন।

এরপর ৬৭ মিনিটে জিকো আবার গোল করে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। প্রথমে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, পরে লিওনেল মেসি গোল করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান।

নাটকের শেষ অঙ্কটি আসে অতিরিক্ত সময়ে। মিশরের অভিযোগ, মোহাম্মদ সালাহকে বক্সের মধ্যে হুলিয়ান আলভারেস ফাউল করলেও রেফারি পেনাল্টি দেননি। সেই বিতর্কিত মুহূর্তের অল্প পরেই এনজো ফার্নান্দেস জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে দেন।

ম্যাচ শেষে ক্ষোভ উগরে দেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। তাঁর কথায়, “আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি। যা ঘটেছে তা অন্যায্য। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার যোগ্য ছিল মিশর। আমরাই ছিলাম ভালো দল।”

কোচের বক্তব্যের পাশে দাঁড়িয়ে বিবৃতি প্রকাশ করে মিশরীয় ফুটবল ফেডারেশন। সেখানে বলা হয়, “আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ম্যাচে যে রেফারিং হয়েছে এবং ভিডিও সহকারী রেফারি যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে আমরা নীরব থাকতে পারি না। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে এবং সিদ্ধান্তগুলির ধারাবাহিকতা ও ন্যায্যতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।”

ফেডারেশন আরও দাবি করেছে, দেশ-বিদেশের বহু ফুটবল বিশেষজ্ঞও ম্যাচের কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, বিশ্বকাপের মতো আসরে রেফারিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মাত্রার স্বচ্ছতা, সততা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “মিশরের ফুটবল সবসময়ই ন্যায্য প্রতিযোগিতা, ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা এবং খেলাটির প্রতি শ্রদ্ধায় বিশ্বাস করে। সেই কারণেই প্রতিটি দলের সমান সুযোগ ও সমান আচরণ পাওয়া উচিত। এই ম্যাচে যা ঘটেছে, তাতে আমাদের ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং কোটি সমর্থকের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।”

শেষে ফেডারেশনের কড়া বার্তা, “জাতীয় দলের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা কোনও গৌণ বিষয় নয়। এটি আমাদের দায়িত্ব। মিশরের জার্সি গায়ে চাপানো প্রতিটি ফুটবলার এবং দলের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি সমর্থক ন্যায্য বিচার, সম্মান এবং আইনের সমান প্রয়োগ পাওয়ার অধিকার রাখেন।”

বিতর্কিত বিদায়ের আক্ষেপ থাকলেও এবারের বিশ্বকাপ মিশরের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই প্রথম তারা বিশ্বকাপে একটি ম্যাচ জিতেছে, প্রথমবার গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছে এবং প্রথমবার নক-আউট পর্বেও জয়ের স্বাদ পেয়েছে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা শেষ আটে উঠেছে এবং সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড, যারা টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে।