Home খবর ই-২০ থেকে ই-২৭

ই-২০ থেকে ই-২৭

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
55 views 5 minutes read
A+A-
Reset

ইথানল দৌড়ে কতটা এগোল ভারত, কীভাবে পথ দেখাল ব্রাজিল

হাইলাইটস:

  • নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ই-২০ লক্ষ্যে পৌঁছেছে ভারত।
  • ১ এপ্রিল থেকে দেশের সব পেট্রোল পাম্পে ডিফল্ট জ্বালানি ই-২০।
  • ব্রাজিলে বহু বছর ধরে চলছে ই-২৭, এমনকি ১০০% ইথানলচালিত গাড়িও।
  • তেল আমদানি কমানো, কৃষকদের আয় বাড়ানো ও দূষণ কমানোই মূল লক্ষ্য।
  • বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বাড়ছে ইথানল-ভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার।

ভারত এখন ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির নতুন অধ্যায়ে। ২০৩০ সালের লক্ষ্য থাকলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ বছর আগেই পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের (ই-২০) লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে দেশ। সেই সাফল্যের পর ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে দেশের সব পেট্রোল পাম্পে ই-২০-ই ডিফল্ট জ্বালানি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে—ইথানল ব্যবহারে বিশ্বের অন্য দেশগুলি কোথায় দাঁড়িয়ে? আর এই আলোচনায় বারবার সামনে আসছে ব্রাজিল, যাকে এই ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম সফল মডেল হিসেবে ধরা হয়।

ব্রাজিল কেন উদাহরণ?

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এবং সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়করি একাধিকবার জানিয়েছেন, ব্রাজিলে বহু বছর ধরে ই-২৭ অর্থাৎ ২৭ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহার হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সেখানে এমন বিপুল সংখ্যক ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি রয়েছে, যা পেট্রোল, ইথানল কিংবা দু’টির যেকোনও অনুপাতে চলতে পারে। এমনকি শতভাগ ইথানলেও চলা গাড়িও রাস্তায় দেখা যায়।

মন্ত্রীদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই ব্যবহারের পরও ইঞ্জিনের বড় ধরনের কোনও সমস্যা দেখা যায়নি।

কীভাবে সফল হল ব্রাজিল?

১৯৭০-এর দশকের বৈশ্বিক তেল সংকটের পর থেকেই ব্রাজিল বিকল্প জ্বালানির পথে হাঁটা শুরু করে। আখ থেকে ইথানল উৎপাদনে বড় বিনিয়োগ, সরকারি নীতির ধারাবাহিকতা এবং ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির প্রসার—এই তিনের সমন্বয়েই দেশটি আজ বিশ্বের অন্যতম সফল ইথানল অর্থনীতি গড়ে তুলেছে।

এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও ব্রাজিলের ওপর তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম পড়ে। পাশাপাশি ভোক্তারাও বাজারদর অনুযায়ী পেট্রোল বা ইথানল—যেটি সস্তা, সেটিই বেছে নেওয়ার সুযোগ পান।

ভারতের লক্ষ্য কী?

ভারতের লক্ষ্যও অনেকটাই একই। বিদেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, কৃষকদের নতুন আয়ের উৎস তৈরি করা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো—এই তিন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই ইথানল মিশ্রণের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে।

বর্তমানে আখ, ভুট্টা এবং অন্যান্য কৃষিজাত কাঁচামাল থেকে ইথানল উৎপাদন বাড়াতে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।

বিশ্বের অন্য দেশগুলির ছবি

শুধু ভারত বা ব্রাজিল নয়, বিশ্বের আরও অনেক দেশই ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার বাড়াচ্ছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে ই-১০ বিক্রি হয়। কিছু এলাকায় ই-১৫ এবং ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির জন্য ই-৮৫-ও পাওয়া যায়।
  • কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের একাধিক দেশেও সীমিত পরিসরে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে।
  • তবে ই-২৭-এর মতো এত উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রণ এখনও ব্রাজিলের মতো খুব কম দেশেই চালু হয়েছে।

ইঞ্জিনে সমস্যা হবে?

ই-২০ চালু হওয়ার পর অনেক গাড়ি মালিকের মধ্যে ইঞ্জিনের ক্ষয় বা পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে গাড়ি নির্মাতাদের দাবি, নতুন প্রজন্মের যানবাহন ই-২০ জ্বালানির উপযোগী করেই তৈরি করা হচ্ছে এবং দীর্ঘ পরীক্ষার পরই এই জ্বালানি চালু হয়েছে।

তবে পুরনো গাড়ির ক্ষেত্রে নির্মাতার নির্দেশিকা মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ বলে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন।

শুধু জ্বালানি নয়, অর্থনীতিরও কৌশল

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথানল মিশ্রণ বাড়ানো শুধু বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার নয়, এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ। আর সেই পথেই ভারতের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে ব্রাজিলের বহু দশকের অভিজ্ঞতা।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles