Home বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিডিজিটাল বিশ্ব বন্ধ হবে সোশ্যাল মিডিয়া, গেমিং এ কোপ সরকারের

বন্ধ হবে সোশ্যাল মিডিয়া, গেমিং এ কোপ সরকারের

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ভাবনা ব্রিটেনে

Authored By অনন্যা মজুমদার
7 views 3 minutes read
A+A-
Reset

বর্তমান পৃথিবীতে সোশ্যাল মিডিয়া এক এমন নেশা, যা ড্রাগ, হেরোইন বা মরফিন এর নেশাকেও হার মানিয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা শিশু থেকে বৃদ্ধ এই নেশার শিকার প্রায় সকলেই। দিনভর ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করা অথবা নিজের জীবনের বিভিন্ন ভালো-মন্দ মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও তোলা, দু ছত্র ক্যাপশন লেখা এবং পোস্ট। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়া সেইসব ছবিতে কতগুলো লাইক হল, কতগুলো শেয়ার হল অথবা কে কি কমেন্ট করল, সেসব চেক করা এবং পাল্টা উত্তর দেওয়া- এই নিয়েই ঘণ্টার পর ঘন্টা কেটে যাচ্ছে সারা পৃথিবীর প্রায় সমস্ত দেশের মানুষের।

এই পৃথিবীতে কোন কালে যে এই সোশ্যাল মিডিয়ার অস্তিত্ব ছিল না, আত্মীয়-স্বজন, খেলাধুলো, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে গান গল্প আড্ডা ছিল মানুষের সবচেয়ে প্রিয় টাইম পাস, সেই ধারণাটাই প্রায় ফসিল হয়ে যাবার মুখে। মানুষের জীবনের এক এবং একমাত্র ধ্রুব সত্য হলো এখন ভার্চুয়াল জগতে নিজের স্ট্যাটাস প্রদর্শন অথবা নিজের বিষয়ে অন্যের ইতিবাচক মতামত জেনে আত্মসুখে মগ্ন হয়ে থাকা। কখনো কখনো এই আত্মসুখ আত্মঘাতীও হয়ে ওঠে। বিভিন্ন গেমিং প্ল্যাটফর্মে এমন বহু টাস্ক দেওয়া হয়, যা পূরণ করতে গিয়ে সরাসরি আত্মহত্যা অথবা বুদ্ধিবৃত্তি নষ্ট হয়ে যাওয়ার মত ঘটনা ঘটছে। এমন নজির সারা পৃথিবীতে প্রচুর।

আর এই সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তির সবচেয়ে বেশি কুপ্রভাব পড়ছে শিশু-কিশোরদের মনের ওপর। কারণ এখানে বয়স্ক মানুষরাই বিবেচক হওয়ার পরেও এই হাতছানি এড়াতে পারে না, সেখানে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ভালো-মন্দের বিবেচনা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম হয়। তার ফলে সোশ্যাল মিডিয়ার অবাস্তব জগতে নিজেদের শৈশব, বুদ্ধিবৃত্তি, শেখার আগ্রহ অথবা সৃজনশীলতা সবকিছুকেই খুইয়ে ফেলছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

এই আত্মঘাতী কান্ড থেকে দেশের নতুন প্রজন্মকে সুরক্ষা দেবার উদ্দেশ্যেই এবার কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে ব্রিটিশ প্রশাসন। জানা গিয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অনলাইনে শিশু কিশোরদের নিরাপত্তা জোরদার করতে  দ্রুতই ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করতে পারেন।  জানা যাচ্ছে এই নতুন আইনটি ২০২৬ সালের শেষভাগে পার্লামেন্টে উত্থাপিত হবে ।  ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে এর সম্পূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়ে গেলে, ফেসবুক, এক্স, ইন্সটাগ্রাম, স্ন্যাপ চ্যাট, টিক টক, রেডিট, থ্রেডস, ইউটিউব-এর মতো জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমগুলি নিষিদ্ধ হয়ে যাবে ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য। এই সোশ্যাল হ্যান্ডেলগুলিতে ১৬ বছরের কম বয়সীরা রেজিস্টার বা লগইন করতে পারবেনা এবং যাদের অ্যাকাউন্ট আছে তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে।

শুধু সোশ্যাল মিডিয়া নয়। নিষেধাজ্ঞার খাড়া নেমে আসতে পারে অনলাইনে তুমুল জনপ্রিয় গেমিং প্ল্যাটফর্ম গুলোর উপরেও। বিশেষত যেসব প্লাটফর্মে অপরিচিতদের সঙ্গে চ্যাট করার সুযোগ থাকবে সেগুলোকেই নিষিদ্ধ করা হবে শিশু-কিশোরদের জন্য অথবা ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সেই ফিচার নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

শুধু তাই নয় ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিভিন্ন যৌনতা সম্পর্কিত কনটেন্ট অথবা এ আই চ্যাটবটগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার জন্য প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করা হচ্ছে। বস্তুত বর্তমান বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য, সাইবার হ্যারাসমেন্ট, অনলাইন বুলিং এর মতো ঘটনা দিনে দিনে বাড়ছে এবং এই ফাঁদে পড়ে শিশু-কিশোর তো বটেই প্রাপ্তবয়স্করা পর্যন্ত এমন কিছু ভুল পদক্ষেপ নিয়ে ফেলছেন যেখান থেকে ফিরে আসার আর কোন উপায় থাকছে না। প্রকৃতপক্ষে এই ডিজিটাল দুনিয়ায় কালো দিকগুলো বর্তমান পৃথিবীতে নিঃশব্দ ঘাতকের মত কাজ করে চলেছে। এই কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রগতিশীল দেশগুলো ইতিমধ্যেই সাইবার দুনিয়ার এই ক্ষতিকর প্রভাব গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়াতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। এবার সেই পথেই পা বাড়াচ্ছে ইউনাইটেড কিংডমও।

 

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles