গ্রামীণ উন্নয়ন ও পঞ্চায়েতি রাজ সংক্রান্ত সরকারি প্রকল্পগুলিতে আধার কার্ডের পরিবর্তে ভোটার আইডি (Voter ID) এবং বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লল্লন সিংহ পঞ্চায়েতের প্রকল্পগুলিতে স্বচ্ছতা আনা এবং ভুয়া উপভোক্তা ছাঁটাইয়ের অজুহাতে এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করলেও, বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েই চলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। কংগ্রেস নেতৃত্বের স্পষ্ট অভিযোগ, এই ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন কোনো সাধারণ সংস্কার নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সাহায্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কৃত্রিম বাধা তৈরি করার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত।

রাহুল গান্ধী বিষয়টিকে কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে জনগণের মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দিন ধরে লড়াইয়ের পর যে আধার কেন্দ্রিক ও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, তাকে পাশ কাটিয়ে নতুন কোনো নথির বাধ্যবাধকতা তৈরি করলে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন গ্রামীণ দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ। বহু ক্ষেত্রে ভোটার কার্ডের ত্রুটি বা তথ্য হালনাগাদ করার জটিলতার কারণে হাজার হাজার প্রান্তিক পরিবার ১০০ দিনের কাজ বা অন্যান্য পঞ্চায়েতি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিরোধী শিবির।

অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। কেন্দ্রের সওয়াল, আধার কার্ডের অপব্যবহার রুখতে এবং স্থানীয় স্তরে প্রকৃত নাগরিকরা যাতে প্রকল্পের সুফল পান, তা নিশ্চিত করতেই ভোটার কার্ড ও বায়োমেট্রিক্সের সাহায্যে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চালু করা হচ্ছে। তবে বিরোধীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের মতে, যেখানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আধারকে কল্যাণমূলক প্রকল্পের অন্যতম মূল ভিত্তি ধরা হয়েছিল, সেখানে আচমকা ভোটার আইডি কার্ডকে সর্বেসর্বা করে তোলার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। নির্বাচনের আগে বা পঞ্চায়েত স্তরে প্রভাব বিস্তার করতেই মোদী সরকার এই নিয়ম চালুর তোড়জোড় করছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। সব মিলিয়ে, পঞ্চায়েতের প্রকল্প থেকে শুরু করে অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে জাতীয় রাজনীতিতে এখন নতুন করে গরম বাতাস বইতে শুরু করেছে।