ভোটার তালিকা সংশোধন তথা ‘এসআইআর’ (Special Summary Revision/SIR) প্রক্রিয়া কেন্দ্র করে শুরু হওয়া রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ এবার চরমে পৌঁছাল। সোমবার সন্ধ্যায় হায়দরাবাদের ঐতিহাসিক মোয়াজ্জমজাহি মার্কেটে আয়োজিত বিজেপির ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হাটাও’ জনসভা থেকে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট এবং বিশেষ করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ৩ কোটি ভোটারকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ (Bangladeshi infiltrators) বলে অভিহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, এদের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব ছিল না এবং এরা নিছকই কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

দিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত বিরোধী শিবিরের সমাবেশকে কড়া খোঁচা দিয়ে অমিত শাহ বলেন, “ঐ দিন দিল্লিতে বিরোধীরা ‘ভোট বাঁচাও’ সমাবেশ করেনি, বরং সেটা ছিল ‘অনুপ্রবেশকারী বাঁচাও’ (Ghuspetiya Bachao) সমাবেশ। রাহুল গান্ধী দাবি করছেন যে দেশজুড়ে ১৩ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আসল সত্য হলো, এর মধ্যে প্রায় ৬.১৫ কোটি মানুষ বাসস্থান পরিবর্তন করে অন্য জায়গায় চলে গিয়েছেন। প্রায় ২.৮ থেকে ৩ কোটি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত ব্যক্তিদের ভোট কারা দিত? কংগ্রেস পার্টি ভুয়ো ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চাইছে। এছাড়া প্রায় ১ কোটি ডুप्लिकেশান বা একই ব্যক্তির দুটি নাম বাতিল করা হয়েছে।”

রাহুল গান্ধীর “এসআইআর-এর কারণেই বিজেপি জিতেছে” অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “২০১৪, ২০১৯ কিংবা ২০২৪ সালে মোদীজি যখন জিতেছিলেন, তখন কি কোনো এসআইআর ছিল? ভারতের আমজনতার ভোটে বিজেপি বারবার জিতে আসছে। ২০২৪-এর সাধারণ নির্বাচনের পরও মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, দিল্লি, বিহার এবং আসামে বিশাল জনাদেশ পেয়ে জিতেছে আমাদের জোট।”

একইসঙ্গে ইভিএম (EVM), অনুপ্রবেশ এবং এসআইআর ইস্যু নিয়ে রাহুল গান্ধীকে সরাসরি আলোচনার খোলা চ্যালেঞ্জ জানান শাহ। তিনি বলেন, “হায়দরাবাদের মাটি থেকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, সাহস থাকলে আসুন। আমরা সংসদের বিশেষ অধিবেশন (Special Parliament Session) ডাকতে প্রস্তুত। কিন্তু রাহুল গান্ধী সেই আলোচনায় আসবেন না, কারণ দেশের রাজনীতিতে অরাজকতা জিইয়ে রাখাই কংগ্রেসের কাজ।” তেলঙ্গানাতেও অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে শীঘ্রই পদ্ম শিবির জয়ী হবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।