জম্মু ও কাশ্মীর রাজনীতিতে ঘটে গেল এক বড়সড় তোলপাড়। ন্যাশনাল কনফারেন্স (NC)-এর সঙ্গে দীর্ঘ ২৪ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে শ্রীনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ শিয়া নেতা ও সাংসদ আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহদি। মঙ্গলবার বডগামের বহিস্ত-ই-জেহরা পার্কে বাবার প্রয়াণ দিবসে হাজার হাজার সমর্থকের সামনে মঞ্চে বসেই নিজের দুই পৃষ্ঠার ইস্তফাপত্রে স্বাক্ষর করেন তিনি। একইসঙ্গে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছেও তিনি নিজের পদত্যাগপত্র মেল মারফত পাঠিয়ে দিয়েছেন।

ইস্তফাপত্রে সই করার পর এক আবেগঘন ও প্রতীকী পদক্ষেপে রুহুল্লাহ নথিটি তুলে দেন ২০১০ সালে ওমর আব্দুল্লাহর প্রথম মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদে কথিত পুলিশ গুলিতে নিহত ১৭ বছরের কিশোর তুফাইল মাত্টুর বাবা মুহাম্মদ আশরাফ মাত্টুর হাতে। সরাসরি নিজের কেন্দ্র ও কাশ্মীরের মানুষের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আব্দুল্লাহ এবং জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। রুহুল্লাহ স্পষ্ট অভিযোগ করেন যে, অনুচ্ছেদ ৩৭০ (Article 370) ফিরিয়ে আনা, সংরক্ষণ নীতি পুনর্বিন্যাস এবং বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুতের মতো মূল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলি নিয়ে এনসি শীর্ষ নেতৃত্ব কাশ্মীরের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

ওমর আব্দুল্লাহর ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে রুহুল্লাহ মেহদি বলেন, “আপনি ভোটে জেতার পর শাল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রতিটি কাশ্মীরিকে হতাশ করেছেন। আপনি মিথ্যা বলেছেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং আমাকে আপনার রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। আমার কেন্দ্রের মানুষ আমাকে বিশ্বাস করেছিলেন।” তিনি আরও মন্তব্য করেন যে বর্তমান এনসি সরকারের কাজের সঙ্গে বিজেপির শাসনব্যবস্থার কোনো বাস্তব পার্থক্য নেই। এনসি কেন্দ্র সরকারের কাছে ‘দাসত্ব স্বীকার’ করেছে বলে তিনি তোপ দাগেন।

এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে রুহুল্লাহ সাফ জানিয়ে দেন, জম্মু, কাশ্মীর এবং লাদাখের মানুষ আর নিজেদের আত্মসম্মান বা সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়ে কোনো আপস করবে না। কেন্দ্রকে নিজেদের শর্তে কথা বলতে হবে, তাদের চাপিয়ে দেওয়া এজেন্ডায় নয়। ইস্তফা দেওয়ার পর তিনি ঘোষণা করেন, কাশ্মীরের অধিকার ও মর্যাদারক্ষার লড়াই চালিয়ে যেতে তিনি সৎ, সহানুভূতিশীল ও তরুণ নেতৃত্ব খুঁজে বের করবেন এবং রাজনৈতিক ময়দানে তাদের নতুন পথ দেখাবেন।