গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির ভারসাম্যের বিষয়ে সোমবার এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনিয়ার সমন্বয়ে গঠিত শীর্ষ আদালতের তিন বিচারপতির বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেন যে, প্রতিবাদের নামে কোনো নির্দিষ্ট স্থান অনির্দিষ্টকালের জন্য দখল করে রাখা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় আন্দোলন হলেও তা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

দিল্লির যন্তর মন্তর এবং রামলীলা ময়দানে নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে বিরোধীদের সম্প্রতি আয়োজিত বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচি কেন্দ্র করে দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেয় আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, “আপনারা চিরকালের জন্য একটি জায়গা দখল করে রাখতে পারেন না। দেশে আরও অন্যান্য আন্দোলনকারী রয়েছেন। একটি দল সব সময় অবস্থান করলে কৃষক বা আইনজীবীরা প্রতিবাদ জানাতে কোথায় যাবেন? প্রত্যেকেরই প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে।” ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত কেন্দ্র ও অন্যান্য পক্ষগুলির জবাব তলব করেছে।

শুনানিকালে কেন্দ্রের তরফে উপস্থিত শীর্ষ আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান যে, যন্তর মন্তরে কেবল মাত্র একদিনের প্রতিবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বিক্ষোভকারীরা এলাকা দখল করে রাখে এবং এমনকি সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করে যাওয়ার চেষ্টা করে। সলিসিটর জেনারেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সংসদ ভবন বা সুপ্রিম কোর্ট কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ভবন নয়। কেউ ইচ্ছা করলেই সংসদ বা শীর্ষ আদালতের দিকে মিছিল নিয়ে যেতে পারে না। যাঁরা এই ধরনের আন্দোলনের ডাক দেবেন, পরিণতিজনিত সমস্ত দায়ভার তাঁকেই নিতে হবে।”

অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগি আদালতে যুক্তি দেন যে, কনট প্লেস ও রামলীলা ময়দান সংলগ্ন পাইকারি বাজারগুলির চারপাশে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা প্রভাবিত হচ্ছে। উৎসবের এই মরসুমে রাস্তা অবরুদ্ধ থাকায় দোকানপাট বন্ধ রাখতে হচ্ছে, যার ফলে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মী, শ্রমিক ও বিক্রেতারা প্রচণ্ড আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সংবিধানের ১৯(১)(এ) এবং (বি) অনুচ্ছেদের অধীনে প্রতিবাদের অধিকার মৌলিক হলেও তা অন্যদের ব্যবসা পরিচালনা ও জীবিকা অর্জনের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট।