ভবিষ্যতের উন্নত প্রযুক্তি ও দেশীয় শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একটি সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ‘কেপেক্স সাপোর্ট স্কিম টু প্রমোট ক্রিটিক্যাল মিনারেল প্রসেসিং’ (Capex Support Scheme to Promote Critical Mineral Processing) নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর অর্থাৎ আর্থিক বছর ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ পর্যন্ত এই প্রকল্পের জন্য মোট ২,৮১৪ কোটি টাকা আর্থিক বরাদ্দ করা হয়েছে।
বর্তমানে লিথিয়াম, নিকেল এবং কোবাল্টের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের পরিশোধিত রূপ ও উচ্চ-বিশুদ্ধ উপাদানের জন্য ভারত ব্যাপকভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বৈশ্বিক বাজারে এই সমস্ত খনিজ পদার্থের প্রক্রিয়াকরণ নির্দিষ্ট কিছু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় সরবরাহ শৃঙ্খলে ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়। এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে এবং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ভারত সরকারের এই নতুন উদ্যোগ।
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও দিকগুলি হলো:
লিথিয়াম ও নিকেল প্রক্রিয়াকরণ: লিথিয়াম এবং নিকেল আকরিককে উচ্চ-বিশুদ্ধতা সম্পন্ন যৌগে রূপান্তর করতে দেশে উন্নত প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো গড়ে তোলা। এছাড়া নিকেল উৎপাদনের উপজাত (By-product) হিসেবে কোবাল্ট পুনরুদ্ধারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উদ্দেশ্য ও পরিকাঠামো: এই স্কিমের আওতায় মোট চারটি আধুনিক প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে— যার মধ্যে দুটি লিথিয়াম এবং দুটি নিকেল প্রক্রিয়াকরণের জন্য নির্ধারিত। এর জন্য যোগ্য বিনিয়োগের ওপর ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূলধন ভর্তুকি (Capital Subsidy) প্রদান করবে সরকার।
কৌশলগত ক্ষেত্রসমূহ: এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইলেকট্রিক গতিশীলতা (Electric Mobility), ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS), আধুনিক ইলেকট্রনিক্স, প্রতিরক্ষা এবং বিশেষ স্টিল (Speciality Steel) খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলি প্রভূত উপকৃত হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং আগামী দিনের আধুনিক প্রযুক্তি তৈরির নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন করতে ভারতকে খনিজ উৎপাদনে স্বনির্ভর হতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, 'আত্মনির্ভর ভারত' গড়ার পথে এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যা দেশের সাপ্লাই চেইনকে আরও সুরক্ষিত করবে।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।