অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে দুই নির্বাচন কমিশনার যে আপত্তিগুলি তুলেছিলেন, তার প্রায় সবকটিতেই ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একের পর এক সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়েছে, আর ফর্ম ৬-এর ক্ষেত্রে সেই পশ্চাদপসরণ এবার পুরোপুরি সম্পূর্ণ।

নতুন ভোটারের নাম তোলার অনলাইন আবেদনে ‘জে’ ও ‘কে’ বিভাগের মাঝখানে যে ঘোষণাটি বসানো হয়েছিল, সেটি আর ফর্ম ৬-এর অংশ নয়। ওই ঘোষণায় আবেদনকারীকে তিনটি বক্তব্যের একটি বাছতে হত: ২০০০-এর দশকের গোড়ায় হওয়া সর্বশেষ বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর সময় ভোটার তালিকায় তাঁর নিজের নাম ছিল; অথবা সেই তালিকায় তাঁর বাবা-মা কিংবা ঠাকুরদা-ঠাকুমা বা দাদু-দিদিমার নাম ছিল; অথবা তাঁর নিজের বা বাবা-মায়ের কারও নামই সেই তালিকায় ছিল না। উত্তর না দিলে আবেদনকারী পরের ধাপে যেতে পারতেন না।

নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী ১৬ মে লিখেছিলেন, আইন অনুযায়ী ফর্মটি সংশোধন না করে এমন বদল করা যায় না। ১৩ আগস্ট আরেক কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু একে ‘অননুমোদিত/বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেন। সেই ঘোষণা এখন পোর্টালে একটি আলাদা ফর্ম হিসেবে রয়েছে।

২৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া পাল্টা হলফনামায় কমিশন জানিয়েছে, ২১ অক্টোবর তার ভোটার তালিকা বিভাগ (ইআর ডিভিশন) ফর্ম ও ঘোষণাপত্র আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হলফনামার বক্তব্য, এসআইআর-সংক্রান্ত ঘোষণাটি ফর্ম ৬-এর ভিতরে রাখা হয়েছিল যাতে আবেদনকারীকে দু’বারের জায়গায় একবারই ওটিপি তৈরি করতে ও একবারই ই-স্বাক্ষর করতে হয়। কমিশনের ভাষায়, এই ‘সদুদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং পরামর্শ এসেছে’। হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, ২১ অক্টোবরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাগজে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার মতোই অনলাইন আবেদনও দু’টি অংশে থাকবে: বিধিতে নির্ধারিত ফর্ম ৬ এবং এসআইআর ঘোষণাপত্র।

ছয় সপ্তাহে ফর্ম ৬ নিয়ে এটি কমিশনের তৃতীয় অবস্থান। এর মাধ্যমে তারা আগের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ সরে এল।

ফর্ম ৬ নিয়ে ঘটনাক্রম

১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধি অনুযায়ী ফর্ম ৬ নির্ধারিত এবং কেবল কেন্দ্রীয় সরকারই তা সংশোধন করতে পারে, এই যুক্তিতে সান্ধু ও জোশী পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছিলেন। জোশী ১৬ মে সেই আপত্তি লিখিতভাবে নথিভুক্ত করেন, ১৯ মে সান্ধু তাঁর সঙ্গে একমত হন। তবু জুলাইয়ে অনলাইন ফর্মে প্রশ্নটি যুক্ত হয়। ১২ জুলাই একটি সংবাদপত্র প্রথম সেই খবর ছাপে। ১৩ আগস্ট সান্ধু একে ‘অননুমোদিত/বেআইনি’ বলে অবিলম্বে সরানোর কথা বলেন। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের সময়ও ঘোষণাটি ফর্মে রয়ে গিয়েছিল।

২৩ সেপ্টেম্বর কমিশন প্রথম যে প্রেস নোট প্রকাশ করে, তাতে ফর্ম ৬-এর কোনও উল্লেখই ছিল না। সেখানে বলা হয়, কমিশনের সব পদক্ষেপ আইন ও কমিশনের নির্দেশ মেনেই হয়েছে। কমিশনারদের নোটগুলিকে বলা হয় খসড়া পর্যায়ে সদস্যদের তোলা কাজ পরিচালনা-সংক্রান্ত প্রশ্ন বা মতামত। আরও জানানো হয়, গত এক বছরের প্রতিটি সিদ্ধান্ত পূর্ণাঙ্গ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ফল।

তিন দিন পরে, ২৬ সেপ্টেম্বর, পূর্ণাঙ্গ কমিশন বৈঠক করে দ্বিতীয় একটি নোট প্রকাশ করে। ফর্ম ৬ প্রসঙ্গে তাতে দু’টি কথা ছিল: এসআইআরের জন্য ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত ঘোষণাপত্রটি সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে; আর এসআইআর ছাড়া অন্য সময়ে ১৯৬০ সালের বিধি অনুযায়ী প্রযোজ্য ফর্মই ব্যবহার হবে।

এর মানে দাঁড়াচ্ছিল, ঘোষণাপত্র অনলাইন ফর্ম ৬-এ থাকবে শুধু এসআইআর চলাকালীন, অর্থাৎ দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের মতো যেসব জায়গায় নিবিড় সংশোধন তখনও চলছিল, সেখানে। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকরও হয়। যেসব রাজ্যে এসআইআর শেষ, সেখানে অনলাইন ফর্ম ৬ থেকে ঘোষণাটি সরানো হয়। কিন্তু যেখানে কাজ চলছিল, সেখানে তা ‘জে’ ও ‘কে’ বিভাগের মাঝেই থেকে যায়।

১২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট জানায়, পরিবর্তিত ফর্ম ৬-কে তারা অনুমোদনও করেনি, বাতিলও করেনি। ২১ অক্টোবর কমিশনের ইআর ডিভিশন সিদ্ধান্ত নেয়, সর্বত্র ফর্ম ৬-এর পাতা থেকে ঘোষণাটি সরিয়ে আলাদা নথি করা হবে। ইসিআইনেট পোর্টালে এখন সেই ব্যবস্থাই দেখা যাচ্ছে।

তবু হলফনামায় কমিশনের দাবি, ফর্ম ৬ কখনও সংশোধন করা হয়নি। এসআইআরের নির্দেশের মাধ্যমে ফর্ম ৬ বদলানো হয়েছে, এই বক্তব্যের কোনও ভিত্তি নেই বলেও সেখানে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হলফনামা মেনে নিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে ফর্ম ৬ ও ঘোষণাপত্র যেভাবে দেখানো হচ্ছিল, তা পর্যালোচনা করতে গিয়ে কিছু উদ্বেগ দেখা দেয়। অনলাইনে ঘোষণাটি এমনভাবে রাখা ছিল যে মনে হতে পারত ফর্ম ৬ সংশোধিত হয়েছে, অথচ সেই ক্ষমতা শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের।

ঘোষণা ফর্মের ভিতরে রাখার পক্ষে কমিশনের নিজস্ব ব্যাখ্যা ছিল, এতে একটি ওটিপি কম লাগত। দু’টি আলাদা নথির জন্য দরকার হত দু’টি ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড ও দু’টি ই-স্বাক্ষর, একই পাতায় থাকলে প্রতিটির একটিই যথেষ্ট ছিল।

অনুসন্ধানে যা উঠে এসেছিল

কমিশনের নামে তাঁদের অগোচরে নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দশ মাসে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন সান্ধু ও জোশী। সেই নোটগুলিতে ছিল নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বিষয়: কে ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হবেন; কার নাম বাদ যাবে ও আবার যুক্ত হবে; সেই পুনর্ভুক্তির বিরুদ্ধে কারা আপিল করবেন; এবং যে সফটওয়্যারে ভোটার তালিকা রক্ষণাবেক্ষণ হয়, তার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।

আরেকটি আপত্তি ছিল কমিশনের নিজের কাজকর্ম নিয়ে। ২৮ জুলাইয়ের একটি প্রশাসনিক নির্দেশে দুই কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই প্রবীণ আধিকারিকদের কাজের বণ্টন বদলে দেওয়া হয়, যার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত ফাইলের দায়িত্বও ছিল। দুই কমিশনার আলাদাভাবে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি লেখেন এবং পরদিন যৌথভাবে নির্দেশটি খারিজ করেন।

১৪টি নোটের মধ্যে পাঁচটির প্রতিলিপি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দেওয়া হয়েছিল। নথিতে তাঁর কোনও জবাব মেলেনি। মে থেকে আগস্টের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিশন একবারও বসেনি।

২৩ সেপ্টেম্বর কমিশনের জবাব ছিল, ওই নোটগুলি ‘পরামর্শ’ ও ‘মতামত’, স্বাভাবিক আলোচনারই অংশ, আর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি পূর্ণাঙ্গ কমিশনের সর্বসম্মত অনুমোদনেই হয়েছে।

পাঁচ সপ্তাহে কী বদলাল

এরপর পাঁচ সপ্তাহে দুই কমিশনারের তোলা প্রায় প্রতিটি বিষয়েই পদক্ষেপ করেছে কমিশন।

কমিশনের বৈঠক: প্রতিটি বৈঠকের আগে আলোচ্যসূচি পাঠানো হবে এবং পরে কার্যবিবরণী প্রকাশ করা হবে। দুই কমিশনার লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, এর কোনওটিই হচ্ছিল না।

বিদেশ সফর: আধিকারিকদের বিদেশ সফরে কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে। দুই কমিশনার নথিভুক্ত করেছিলেন, অনুমোদন ছাড়াই আধিকারিকেরা বিদেশে যাচ্ছিলেন।

নতুন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা: তথ্যপ্রযুক্তির ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খন্নার অধীনে তৈরি নতুন আইটি মডিউল ও পোর্টাল প্রথমে আধিকারিকদের একটি কমিটির কাছে যাবে, তারপর অনুমোদনের জন্য কমিশনের সামনে আসবে। দুই কমিশনার লিখেছিলেন, কমিশনের অগোচরে মডিউল তৈরি হচ্ছিল।

ইসিআইনেটের অডিট: প্রযোজ্য আইন ও বিধি মানা হচ্ছে কি না যাচাই করতে ১৪ অক্টোবরের সার্কুলারে একটি কমিটি গড়া হয়েছে। প্রধান একজন সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার। সদস্যদের মধ্যে আছেন আরও একজন সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার, একজন ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার, একজন ডিরেক্টর, চারজন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং আইআইটি বম্বে ও বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের দু’জন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ। ২৯ মে জোশী এই অডিটের দাবি তোলেন, যার কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন ‘ভোটার তালিকার ডেটাবেসের ক্রমশ কেন্দ্রীকরণ’। ১৩ জুলাই সান্ধু প্রস্তাবটি সমর্থন করেন এবং ১৪ আগস্ট নথিভুক্ত করেন যে এ নিয়ে কোনও অগ্রগতিই হয়নি।

মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের ক্ষমতা: ইসিআইনেট সফটওয়্যারে বদল এনে কমিশন এখন মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের অনেক বেশি সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা দিয়েছে। যেমন, মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এস চোক্কালিঙ্গম ২৪ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে ইসিআইনেটে চারটি বদল চেয়েছিলেন, সেগুলি করা হয়েছে।

পুরনো তালিকার সঙ্গে তথ্য না মেলা বা যৌক্তিক অসংগতির কারণে নোটিস পাওয়া ভোটারদের ব্যক্তিগত শুনানি এখন হবে কেবল ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে। বদলে বুথ লেভেল অফিসারেরা বাড়ি গিয়ে নথি সংগ্রহ করবেন, আর ভোটারেরা নির্দিষ্ট ১৩টি শ্রেণির বাইরের নথিও জমা দিতে পারবেন। যৌক্তিক অসংগতির ঘটনা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে না পাঠিয়ে ভোটার নিবন্ধন আধিকারিকেরা (ইআরও) নিজেরাই নিষ্পত্তি করতে পারবেন। আগের এসআইআরের ভোটার তালিকার প্রাসঙ্গিক অংশ বাধ্যতামূলকভাবে আপলোড করার শর্তও তুলে নেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ: ১৪ আগস্ট সান্ধু লিখেছিলেন, ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত সব দায়িত্ব ইআরও, ডিইও ও সিইও-দের, অথচ তথ্যপ্রযুক্তির ডিরেক্টর জেনারেল প্রবেশাধিকারের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেছেন। তাঁর মতে, আইনবলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে দেওয়া যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার এবং কাজের স্বাধীনতা সীমিত করার কোনও আইনি ক্ষমতা তাঁর নেই।

গোয়ার ৯৭ জন ভোটার: অনুসন্ধানে উঠে এসেছিল, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর একাধিক চিঠি লিখলেও ইসিআইনেট সফটওয়্যার মাঠপর্যায়ের নির্বাচনী আধিকারিকদের ওই ৯৭ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ফেরানোর সুযোগ দেয়নি। খসড়া তালিকা তৈরির সময় তাঁদের নাম বাদ পড়েছিল। পরে তাঁরা নথি জমা দেন এবং গোয়ার ইআরও-রা নাম যুক্ত করার অনুমোদন দেন। কিন্তু তখন দেখা যায়, নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের কোনও ব্যবস্থাই ইসিআইনেটে নেই। সাত দিনে আটবার দিল্লিকে চিঠি লেখে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর, প্রতিটির প্রতিলিপি যায় সীমা খন্নার কাছে। তবু ওই ভোটারদের নাম ছাড়াই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়।

এখন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে তাঁদের নাম যুক্ত করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, ৯৭ জনের মধ্যে ৮৮ জন ফর্ম ৬ পূরণ করেছেন এবং তাঁদের আবেদন গৃহীত হয়েছে। ছয়জন দেশের বাইরে রয়েছেন, আর তিনজনের পর্তুগিজ পাসপোর্ট আছে।

নাম নথিভুক্তির দু’টি নতুন কর্মসূচি: ২৯ সেপ্টেম্বর কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, যেসব রাজ্যে এসআইআর শেষ, সেখানে তালিকা থেকে ‘বাদ পড়ে যাওয়া’ ভোটারদের নাম তুলতে ‘বিশেষ অভিযান’ চালাতে হবে। চলতি মাসে ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ২০২৭ সালে যাঁদের বয়স ১৮ হবে, তাঁদের নাম তোলা। এই কর্মসূচিতে ফর্ম ৬ পূরণকারীদের এসআইআর-সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র পূরণ করতে হবে না।

১২ আগস্টের নোটে সান্ধু আধিকারিকদের কাছে পাঁচটি প্রশ্ন রেখেছিলেন। বিষয় ছিল, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা যাঁদের নাম অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই ভোটারদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া লক্ষ লক্ষ আপিল। তিনি জানতে চান: মোট আপিল কত; শ্রেণি অনুযায়ী তার হিসাব কী; কমিশন নিজে আপিল করেছে কি না; কাদের আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং কে সেই অনুমতি দিয়েছিলেন; আর আসলে কারা আপিলগুলি করেছেন। সান্ধু নথিভুক্ত করেন, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, বিষয়টির বিস্তারিত তথ্য তাঁর কাছে নেই।

হলফনামায় কমিশনের উত্তর, ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে কমিশনের ভিতরে কারও আলাদা অনুমোদনের দরকার ছিল না, কারণ সুপ্রিম কোর্ট আগেই জানিয়েছিল যে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকেরা আপিল করতে পারবেন। দু’টি নির্দেশে আদালত স্থির করেছিল, এসআইআরে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে সেই ভোটারেরা এবং কোনও নাম পুনরায় যুক্ত হওয়ায় আপত্তি আছে এমন কমিশনের আধিকারিকেরা। অর্থাৎ কমিশন নিজের দিকে নয়, আদালতের দিকে আঙুল তুলছে।

হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, ২২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের একটি চিঠি অনুযায়ী আপিলগুলি করেছিলেন ওই দপ্তরের আধিকারিকেরা, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে কর্তৃপক্ষ হিসেবে তাঁদের ক্ষমতাবলে, এবং বিষয়গুলি কমিশনের নজরে আনা হয়নি। মোট কতগুলি আপিল হয়েছিল, তা অবশ্য জানানো হয়নি।

সান্ধুর প্রশ্নের দশ সপ্তাহ পরে এবং হলফনামা জমার চার দিন আগে এই উত্তর আসে, আর তা আসে সেই দপ্তর থেকেই, যার প্রধান আগে সান্ধুকে জানিয়েছিলেন যে বিস্তারিত তথ্য তাঁর কাছে নেই। আপিলগুলি প্রত্যাহার হয়নি। হলফনামা বলছে, যেসব ভোটারের নাম যুক্ত হওয়ার বিরুদ্ধে আপিল হয়েছিল, তাঁরা ভোটার তালিকায় আছেন এবং সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন।

এত কিছুর পরেও আদালতে কমিশনের অবস্থান, কোনও সিদ্ধান্তই ভুলভাবে নেওয়া হয়নি। হলফনামা জমার অনুমোদন এসেছে তিন সদস্যের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে, এবং তাতে বলা হয়েছে, কোনও কমিশনারের একটি নোট ১৮ নম্বর ধারার অধীনে কমিশনের সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হয় না। আর যা শোধরানোর দরকার ছিল, তা হল দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নেওয়া কিছু পদক্ষেপ।