মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বৈদেশিক সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে এ যাবৎকালের সবচেয়ে তীব্র ও বিস্ফোরক আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি এবং ভারতীয় বাজারের ওপর তার প্রভাব নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুতুল হিসেবে কাজ করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্য মঞ্চে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে কংগ্রেস সাংসদ বলেছেন, আমনাসামনি বিতর্কে বসলে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিনি প্রমাণ করে দেবেন যে নরেন্দ্র মোদী দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়েছেন এবং একজন ‘দেশদ্রোহী’।
নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের একের পর এক শুল্ক চাপানোর হুমকি ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের সামনে প্রধানমন্ত্রী হাঁটু গেড়ে বসেছেন। তিনি বলেন, “সমগ্র দেশ দেখছে কীভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণ করছেন। ট্রাম্পের তৈরি করা নিয়ম আর ইশারাতেই দিল্লির দরবার চলছে। এই সরকার ভারতের কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে আমেরিকানদের হাতে তুলে দিয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি মুখোমুখি বিতর্কের আহ্বান জানিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, “আমি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছি। যেকোনো নিরপেক্ষ সাংবাদিক বা বিচারকের উপস্থিতিতে আমার সঙ্গে খোলা মঞ্চে এসে বসুন। যদি মোদীজির সাহস থাকে, তবে আমার আনা সমস্ত তথ্য ও নথির মুখোমুখি হোন। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, দেশবাসীর সামনে মোদীজি যে ভারতের স্বার্থবিরোধী ও দেশদ্রোহী কাজ করেছেন—তা প্রমাণ করতে আমার পাঁচ মিনিটের বেশি সময় লাগবে না।”
রাহুলের এই মন্তব্যের পর জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক ঝড় উঠেছে। কংগ্রেসের তরফ থেকে রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যকে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই বলে দাবি করা হলেও, পাল্টা সুর চড়িয়েছে শাসক দল বিজেপি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে রাহুলের এই বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ ও ‘ভারতীয় গণতন্ত্রের অবমাননা’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক ও বাণিজ্যিক সমীকরণে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তার মাঝেই রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য দিল্লির রাজনৈতিক ময়দানকে অভূতপূর্বভাবে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।