দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল কংগ্রেসের এক দলীয় কার্যালয়ে হানা দিয়ে নগদ ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করল পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল সরিষা এলাকার ওই কার্যালয়ে অভিযান চালায়। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) অভিষেক মজুমদার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, তৃণমূল সাংসদের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে টানা জেরা করার পরই এই বিপুল পরিমাণ নগদের হদিস মেলে।

পুলিশ সূত্রের খবর, শালবনির জমি দুর্নীতি মামলার পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কালীতলা আশুতি থানা এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি জমি থেকে বেআইনিভাবে মাটি কেটে বিক্রির মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে সুমিতের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় জেলবন্দি সুমিত রায়কে গত শনিবার আলিপুর আদালতে আবেদনের মাধ্যমে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। বিচারক তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। হেফাজতে নেওয়ার পর সুমিতকে জেরা করে নির্দিষ্ট কিছু সূত্র পান তদন্তকারীরা। সেই সূত্রের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার রাতে সরিষার কার্যালয়টিতে তল্লাশি চালিয়ে এই অর্থ উদ্ধার করা হয়।

তবে ওই কার্যালয়টির মালিকানা ও অর্থ রাখার কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, দলীয় কার্যালয়টি তৃণমূলের হলেও এটি নির্দিষ্টভাবে কে পরিচালনা করতেন এবং এই টাকার উৎস কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কালীতলা আশুতি থানার মাটি চুরি মামলার সঙ্গে এই উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থের সরাসরি যোগ থাকতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।

অন্য দিকে, টাকা উদ্ধারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, যে কার্যালয়ের কথা বলা হচ্ছে সেটি ২০২৩ সালে ৩ বছরের জন্য ইজারা (Lease) নিয়ে চালানো হচ্ছিল। কিন্তু গত ২১ মে রাতে কিছু দুষ্কৃতী সেখানে তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করায় বাড়িটি খালি করে আসল মালিককে ফেরত দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে ডায়মন্ড হারবার থানায় লিখিত অভিযোগও জানানো হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। মাটি চুরির মামলার তদন্তে নাম জড়ানো ও দলীয় কার্যালয়ে কোটি টাকা উদ্ধার ঘিরে জেলা রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা শুরু হয়েছে।