দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের সমাবেশে অনুপস্থিত থাকার কারণে পশ্চিমবঙ্গ যুব কংগ্রেসের ২৬ জন পদাধিকারীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয় জন জেলা সভাপতিও রয়েছেন। সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে নেতৃত্ব জানিয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে।

সংবাদ সংস্থা IANS জানিয়েছে, ৩ নভেম্বর জারি করা নির্দেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাসপেনশন কার্যকর থাকবে। নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন যুব কংগ্রেসের জাতীয় সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত এহসান আহমেদ খান এবং রাজ্য সভাপতি সৌরভ প্রসাদ।

সাসপেন্ড হওয়া জেলা সভাপতিদের মধ্যে রয়েছেন কোচবিহারের সুকমল বর্মণ, জলপাইগুড়ির নবীনেন্দু মৌলিক, উত্তর দিনাজপুরের মামুন রেজা, পূর্ব বর্ধমানের মিঠুন সরকার, উত্তর কলকাতার অভিষেক গুপ্ত এবং দক্ষিণ কলকাতার ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল। রাজ্য সংগঠনের সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা কয়েক জনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সমাবেশ করেছিল বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও ওঠে সেখানে। কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দলের নেতারা ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সমাবেশে অনুপস্থিতি নিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা শুধু বাংলাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক রাজ্যে যুব কংগ্রেসের পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে একই কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নেতৃত্বের বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের অনুপস্থিতি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে।

বাংলায় এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রোহন মিত্র। তাঁর বক্তব্য, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন সংগঠনের কাজ করে যাওয়া নেতাদের অনুপস্থিতির কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন ছিল। অনেক কর্মী সাধারণ পরিবার থেকে আসেন এবং তাঁদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি মানবিক ও বাস্তব দৃষ্টিতে দেখার আর্জি জানিয়েছেন রোহন।