ত্রিপুরার পুরভোটে বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই আগরতলা পুরনিগমের ৪৯টি ওয়ার্ডে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। দলের নেতৃত্ব জানিয়েছেন, তাঁরা এককভাবে নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে, বাম নেতৃত্বের দাবি, আলোচনা শেষ হয়ে যায়নি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমার মধ্যে সমঝোতা সম্ভব।
আগামী ২৭ নভেম্বর পুরভোট। আগরতলা পুরনিগমের মোট ৫১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩০ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থীর নাম এখনও ঘোষণা করেনি কংগ্রেস। বুধবার প্রকাশিত তালিকায় বাকি ৪৯টি ওয়ার্ডের প্রার্থী রয়েছেন। indiatodayne.in
আগরতলায় সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায়বর্মণ এবং প্রদেশ সভাপতি আশিসকুমার সাহা বামফ্রন্টের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, সমঝোতা চূড়ান্ত করার আগেই বামেরা নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। পরে বিরোধী ভোট ভাগ ঠেকানোর কথা বলে কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সুদীপের বক্তব্য, যথাযথভাবে প্রস্তাব এলে কংগ্রেস তা বিবেচনা করত। কিন্তু আগে প্রার্থী ঘোষণা করে পরে সমঝোতার কথা বলার পদ্ধতি তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, আগরতলার সব ওয়ার্ডে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে দল। northeastlivetv.com
বাম নেতৃত্ব অবশ্য কংগ্রেসের অভিযোগ মানতে চাননি। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীর বক্তব্য, আসন ভাগাভাগি নিয়ে সুদীপ রায়বর্মণ ও আশিস সাহার সঙ্গে কথা হয়েছে। কয়েক জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মানিক দে-ও দাবি করেছেন, একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, কিছু জায়গায় সমঝোতা এগিয়েছে। প্রয়োজন হলে ইতিমধ্যে প্রার্থী দেওয়া আসন নিয়েও আলোচনা করতে প্রস্তুত বামফ্রন্ট।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ নভেম্বর। প্রত্যাহারের সময়সীমা ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, ওই সময়ের মধ্যে বোঝাপড়া হলে সংশ্লিষ্ট আসন থেকে প্রার্থী প্রত্যাহার করা সম্ভব। ফলে আগরতলায় কংগ্রেস একক লড়াইয়ের ঘোষণা করলেও শেষ পর্যন্ত কতগুলি ওয়ার্ডে দুই দল মুখোমুখি থাকবে, তা প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরোনোর পরেই স্পষ্ট হবে।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।