দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের বিশাল সমাবেশ থেকে কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ, রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্যের লাগামছাড়া দাম নিয়ন্ত্রণ এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিজেপি সরকারের দীর্ঘমেয়াদী ব্যর্থতার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরে এই মেগা মঞ্চ থেকেই ‘মোদী-জ্ঞানেশ হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগান তোলেন বিরোধী নেতারা।
রামলীলা ময়দানের সুবিশাল জনসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ফের একবার ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, বিরোধী দলগুলি নির্বাচনে হারে না, বরং তাদের পরিকল্পিতভাবে হারিয়ে দেওয়া হয় এবং বিজেপি ভোট লুট করে দেশের মৌলিক গণতন্ত্রকে হরণ করছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটি আজ বিজেপির রাজনৈতিক চক্রান্ত ও তথাকথিত ‘এসআইআর’ (SIR)-এর নির্মম শিকার বলে দাবি করে তৃণমূলনেত্রী হুঁশিয়ারি দেন যে, জনগণের এই তীব্র আন্দোলনের চাপে আগামী দিনে এই বিজেপি সরকার এবং তাদের অনুগত জ্ঞানেশ কুমার— দু’জনকেই গদি ছাড়তে হবে।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন যে, মোদী সরকার দেশের যুব সমাজকে নতুন কাজের সুযোগ বা স্থায়ী কর্মসংস্থান দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দামের কারণে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবন আজ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, অথচ সরকারের সেদিকে কোনো নজর নেই। কর্মসংস্থান ও মানুষের পেটে ভাত জোগাতে চরম ব্যর্থ হয়ে বিজেপি সরকার এখন প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোট চুরির সংকীর্ণ রাজনীতিতে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই সুর মিলিয়ে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন গোপন আঁতাত করে ভোট লুট চালিয়েছে। অখিলেশের দাবি, নির্বাচন কমিশন আজ নিরপেক্ষতা হারিয়ে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, তবে বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে জালিয়াতির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছে তাতে কমিশন ও সরকার জবাবদিহি করতে বাধ্য হচ্ছে। পরিশেষে মল্লিকার্জুন খড়গে, রাহুল গান্ধী, সনিয়া গান্ধী ও তেজস্বী যাদবদের উপস্থিতিতে এই জনসভা থেকে সমস্ত বিরোধী নেতৃত্ব একসুরে বার্তা দেন যে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান ও কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনতে মোদী সরকারের এই অরাজকতার বিরুদ্ধে তাদের লড়াই আরও তীব্র হবে।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।