রাজ্যে বৃহৎ শিল্প সংস্থাগুলিকে আকৃষ্ট করতে এবং নতুন বিনিয়োগের পথ সুগম করতে বড়সড় ঘোষণা করল সরকার। বহুপ্রতীক্ষিত রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি (New Industrial Policy) আগামী ৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আসতে চলেছে। নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী এই নতুন নীতি ও তার রূপরেখা ঘোষণা করবেন। ইতিমধ্যেই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবে চূড়ান্ত ছাড়পত্র মিলেছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অনুমোদনের লাল ফিতের ফাঁস অন্যতম বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছিল। সেই জটিলতা সম্পূর্ণ দূর করতেই এবারের শিল্পনীতিতে নিয়ে আসা হচ্ছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। নবান্ন সূত্রের খবর, নয়া এই পলিসিতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’ বা সহজে ব্যবসা করার পরিবেশ তৈরি করা এবং কার্যকর ‘সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম’ (Single Window System)-এর ওপর। ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি বিনিয়োগকারী শিল্পপতিদের জন্য থাকছে বিশেষ ইনসেনটিভ এবং দ্রুত সরকারি অনুমোদন পাওয়ার সুব্যবস্থা।
নতুন নীতিতে জমি সংক্রান্ত বিষয়টিতেও বেশ কিছু কড়া অথচ স্পষ্ট শর্ত রাখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, শিল্পের জন্য বরাদ্দ জমি পাওয়ার পর তিন বছরের মধ্যে সেখানে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করা বাধ্যতামূলক হবে, অন্যথায় সেই জমি ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তাছাড়াও সিঙ্গুর, হিন্দমোটর এবং ডোমজুড়ের মতো এলাকাগুলিতে বন্ধ বা অব্যবহৃত জমিকে শিল্পকাজে ব্যবহার করার বিশেষ পরিকল্পনার উল্লেখ থাকতে পারে এই নয়া নীতিতে। মূলত রাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দেশ-বিদেশের লগ্নিকারীদের কাছে পশ্চিমবঙ্গকে এক নম্বর শিল্প গন্তব্য করে তোলাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।