উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের পুলিশের ‘এনকাউন্টারে’ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার পুনর্নির্মাণে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের রিভলভার ছিনিয়ে গুলি চালনার অভিযোগে পুলিশের পাল্টা গুলিতে নিহত হন প্রহ্লাদ। এবার পুলিশের সেই বয়ান ও এনকাউন্টারের সত্যতা নিয়েই সরাসরি প্রশ্ন তুলে ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচারের দাবি জানালেন নিহত অভিযুক্তের মা রেখা দাস।

রেখা দাসের বিস্ফোরক দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের উদ্দেশ্যে সোমবার গভীর রাতে যখন প্রহ্লাদকে তাঁদের বাড়িতে আনা হয়েছিল, তখন তাঁর দু’টি হাত স্পষ্টভাবেই বাঁধা ছিল। সেই অবস্থায় পাঁচজন সশস্ত্র পুলিশ অফিসারের উপস্থিতিতে প্রহ্লাদ কীভাবে রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালাল, তা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "রাত ২টোর সময় যখন ছেলেকে বাড়িতে আনল, তখন ওর হাত বাঁধা ছিল। সঙ্গে পাঁচ জন পুলিশ অফিসার ছিল। কী করে পিস্তল বার করে গুলি করবে? আপনারা একটু ভেবে দেখুন তো!"

নিহতের পরিবারের স্পষ্ট কথা, প্রহ্লাদ যদি অপরাধ করে থাকে, তবে আইনের মাধ্যমে আদালত তাঁকে যে শাস্তি দিত তা মেনে নিতে তাঁদের কোনো আপত্তি ছিল না। এর জন্য তাঁরা বারবার পুলিশের দ্বারেও গিয়েছিলেন। কিন্তু হেফাজতে থাকা অবস্থায় পুলিশের গুলিতে এমন মৃত্যুকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। নিহতের মায়ের কথায়, "ওই মেয়েও খুন হয়েছে, আর আমার ছেলেও খুন হয়েছে। আমরা এই অন্যায়ের বিচার ও সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ চাই।" অন্যদিকে পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রিভলভার ছিনিয়ে আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়েছিল। পরিবারের এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর গাইঘাটা কাণ্ড নতুন আইনি ও সামাজিক বিতর্কের মুখ দেখল।