দেশ

উর্দু সংবাদপত্রে: ‘জ্ঞানেশ কুমারকে সরে দাঁড়াতেই হবে, সংকটে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা’

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: ‘টি এন শেষনের সময়ে উত্থান থেকে এসআইআর বিপর্যয়ের মধ্যে আজকের পতন—নির্বাচন কমিশনের যাত্রাপথ অস্থিরতায় ভরা।
  • আমাদের গণতন্ত্রের স্বার্থেই কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা জরুরি,’ লিখেছে ‘আগ’।
  • গত সপ্তাহে উর্দু সংবাদপত্রগুলির আলোচনার কেন্দ্রে ছিল নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও অসন্তোষ।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: ‘টি এন শেষনের সময়ে উত্থান থেকে এসআইআর বিপর্যয়ের মধ্যে আজকের পতন—নির্বাচন কমিশনের যাত্রাপথ অস্থিরতায় ভরা। আমাদের গণতন্ত্রের স্বার্থেই কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা জরুরি,’ লিখেছে ‘আগ’।

গত সপ্তাহে উর্দু সংবাদপত্রগুলির আলোচনার কেন্দ্রে ছিল নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও অসন্তোষ। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে দু’জন—সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক জোশী—দশ মাসে চোদ্দো বার বিভিন্ন বিষয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের অজ্ঞাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া, নতুন ভোটারদের জন্য নির্ধারিত ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরে নাম বাদ দেওয়া ও পুনর্বহাল এবং ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীকরণ—সবই ছিল সেই আপত্তির পরিসরে।

উর্দু দৈনিকগুলির মতে, এই ঘটনাগুলি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটির এক অভূতপূর্ব সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরাতে এবং নির্বাচনের শুদ্ধতা সম্পর্কে মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে অবিলম্বে সংশোধনমূলক পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে জোর দিয়েছে তারা।

ইনকিলাব

কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং এসআইআর-সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়াগত ঘাটতি নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার সান্ধু ও জোশীর আপত্তির কথা প্রকাশ্যে আসার পরে যে ঝড় উঠেছে, তা নিয়ে ২৬ সেপ্টেম্বরের সম্পাদকীয়তে আলোচনা করেছে ‘ইনকিলাব’-এর নয়াদিল্লি সংস্করণ। পত্রিকাটি লিখেছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাজকর্মের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদের স্বর উঠছে, তা চাপা দেওয়া সম্ভব নয়।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, “দেশজুড়ে চলতে থাকা প্রতিবাদ, আদালতে দায়ের হওয়া আবেদন, বিরোধী দলগুলির ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং তরুণ আন্দোলনকারীদের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ—এই ঘটনাগুলি সমস্যার গুরুত্বই তুলে ধরছে। একই সঙ্গে একটি প্রশ্নও উঠছে: দেশের নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের উপরে মানুষের এখনও আস্থা আছে কি? আর সেই আস্থা যদি হারিয়ে যেতে থাকে, তবে তা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব কার?”

পত্রিকাটি জানিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় কথিত বেআইনি কাজকর্ম, বিশেষত ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যায় নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে কয়েকটি আবেদন দায়ের হয়েছে। কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সম্পাদকীয়টির বক্তব্য, বহু প্রশ্ন, উদ্বেগ ও আপত্তির উত্তর এখনও দেয়নি কমিশন।

দৈনিকটির মতে, দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিরোধী দল ও যুব সংগঠনগুলির প্রতিবাদ রাজনৈতিক কর্মী এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বাড়তে থাকা ক্ষোভের পরিচয় দিচ্ছে।

“প্রতিবাদকারীদের অনেককে পুলিশ আটক করেছে। সরকারের বোঝা উচিত, পুলিশি ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের পবিত্রতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে জনমানসে তৈরি হওয়া সংশয় দূর করা যায় না। কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচি ভেস্তে দেওয়া সম্ভব, কিন্তু তাতে এই প্রশ্নগুলির অবসান ঘটবে না,” লিখেছে পত্রিকাটি।

মানুষের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের নিরসনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, “জ্ঞানেশ কুমারকে তাঁর পদ থেকে সরাতেই হবে। কারণ, দেশের নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতাই এখন বিপন্ন।”

আগ

অনুসন্ধানের পরে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক নিয়ে ২৬ সেপ্টেম্বরের সম্পাদকীয়তে লখনউ থেকে প্রকাশিত ‘আগ’ লিখেছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ভিত্তিতে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃত। রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের অধীনে নির্বাচন কমিশনকে একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

“কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে তার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে,” লিখেছে পত্রিকাটি।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত নিজের কার্যকালে তৎকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টি এন শেষন কমিশনকে স্বতন্ত্র পরিচিতি, লক্ষ্য ও কার্যকর ক্ষমতা দিয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজের ক্ষমতা চিনে নিতে সাহায্য করেছিলেন তিনি। নির্বাচনী অনিয়ম চিহ্নিত করা, ভোটার পরিচয়পত্র চালু করা, আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর করা এবং নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা নির্ধারণের মতো ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় গণতন্ত্রের চেহারা বদলে দিয়েছিলেন।

পত্রিকাটি লিখেছে, “এই সংস্কারগুলি প্রত্যেক ভোটারের মনে বিশ্বাস জাগিয়েছিল যে প্রতিটি ভোটেরই গুরুত্ব আছে এবং তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রকৃত রক্ষক হল নির্বাচন কমিশন।”

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ-সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ২০২৩ সালের রায়ের উল্লেখ করে সম্পাদকীয়টি জানিয়েছে, সর্বোচ্চ আদালত একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নির্ধারণ করেছিল। সেই ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং ভারতের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে এই নিয়োগ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার পরে ২০২৩ সালেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ-সংক্রান্ত আইন পাশ করে। সেই আইনে বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে রাখা হয়, যার ফলে কমিটিতে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয় বলে লিখেছে পত্রিকাটি।

“নিয়োগের এই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বিরোধীরা অভিযোগ করে আসছে যে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা থেকে আদর্শ আচরণবিধি বেছে বেছে প্রয়োগ—নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কমিশন শাসকপক্ষের প্রতি পক্ষপাত দেখাচ্ছে,” বলা হয়েছে সম্পাদকীয়তে।

দৈনিকটির মতে, নির্বাচন কমিশন এখন তার সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি। যেভাবে এসআইআর পরিচালিত হয়েছে, তা কমিশনের কাজকর্ম এবং বিভিন্ন আইনি ও সাংবিধানিক বিধান মেনে চলা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

“বিরোধীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে। দেশজুড়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তারা। সংসদে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার কথাও নতুন করে জানিয়েছে। কমিশন কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দিতে বিবৃতি জারি করেছে বটে, কিন্তু সেগুলি বরং ধামাচাপা দেওয়ার সন্দেহ আরও জোরদার করেছে,” লিখেছে পত্রিকাটি।

সম্পাদকীয়টির বক্তব্য, “টি এন শেষনের সময়ে উত্থান থেকে এসআইআর বিপর্যয়ের মধ্যে আজকের পতন—নির্বাচন কমিশনের যাত্রাপথ অস্থিরতায় ভরা। আমাদের গণতন্ত্রের স্বার্থেই কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।”

সিয়াসত

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে চলা নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বরের সম্পাদকীয়তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘সিয়াসত’। সাম্প্রতিক কয়েকটি ভয়াবহ ঘটনার উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি। বিহারের জামুইয়ে একদল পুরুষের বিরুদ্ধে এক নাবালিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ দিল্লির একটি পার্কে পুলিশ পরিচয় দিয়ে তিন ব্যক্তি ১৭ বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ।

একটি স্লিপার বাসের চালক ও কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেছে সম্পাদকীয়টি। ঘটনাটি চলাকালীন বাসটি গ্রেটার নয়ডা থেকে পুরনো দিল্লির কাশ্মীরি গেট পর্যন্ত প্রায় ৪৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় বলে অভিযোগ।

পত্রিকাটি লিখেছে, “এই সব ঘটনাই গভীর উদ্বেগজনক। জনপরিসরে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলির ব্যর্থতাই এতে সামনে আসছে। নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে সরকারের স্লোগান অন্তঃসারশূন্য শোনায়, কারণ মহিলারা এখনও ব্যাপক হিংসা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে চলেছেন।”

সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়েছে, “এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে এমন এক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়, যা মহিলাদের নিয়ন্ত্রণ করতে, ভয় দেখিয়ে দাবিয়ে রাখতে এবং তাঁদের অধিকার ও স্বাধীনতা সংকুচিত করতে চায়। সর্বস্তরে মহিলাদের সমান অধিকার পাওয়ার বিরোধিতা করে এসেছে এই পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা।”

দৈনিকটির বক্তব্য, মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার জন্য নানা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করে সরকার। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি অন্য কথা বলে। দেশজুড়ে মেয়ে ও মহিলাদের উপরে বাড়তে থাকা অত্যাচারেই সেই বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটছে। এতে প্রশাসন ও পুলিশের ব্যবস্থাগত ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করে পত্রিকাটি।

“সরকারকে এই সংকট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতেই হবে। এর মোকাবিলায় দৃঢ়, কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি,” দাবি করেছে সম্পাদকীয়টি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles