খবর

অসুস্থতার ধাক্কায় বদলে গিয়েছি: একসময় তারকাখ্যাতির নেশায় অহংকারী হয়ে উঠেছিলাম, স্বীকারোক্তি সামান্থা রুথ প্রভুর

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • হাইলাইটস মায়োসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার আগে তারকাখ্যাতির নেশায় ডুবে ছিলেন সামান্থা রুথ প্রভু।
  • পরপর একাধিক হিট ছবির সাফল্য তাঁকে আত্মবিশ্বাসী থেকে অহংকারী করে তুলেছিল বলে স্বীকারোক্তি অভিনেত্রীর।
  • অসুস্থতার পর জীবন, কাজ এবং সাফল্যকে নতুন করে দেখতে শিখেছেন তিনি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

হাইলাইটস

  • মায়োসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার আগে তারকাখ্যাতির নেশায় ডুবে ছিলেন সামান্থা রুথ প্রভু।
  • পরপর একাধিক হিট ছবির সাফল্য তাঁকে আত্মবিশ্বাসী থেকে অহংকারী করে তুলেছিল বলে স্বীকারোক্তি অভিনেত্রীর।
  • অসুস্থতার পর জীবন, কাজ এবং সাফল্যকে নতুন করে দেখতে শিখেছেন তিনি।
  • বর্তমানে নতুন তেলুগু ছবি Maa Inti Bangaram-এর প্রচারে ব্যস্ত সামান্থা।

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী Samantha Ruth Prabhu বহুদিন ধরেই নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত লড়াই নিয়ে খোলামেলা কথা বলে আসছেন। বিরল অটোইমিউন রোগ Myositis-এ আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর জীবনযাত্রা ও চিন্তাভাবনায় যে গভীর পরিবর্তন এসেছে, সে কথা আগেও একাধিকবার জানিয়েছেন তিনি। এবার এক সাক্ষাৎকারে সামান্থা স্বীকার করলেন, সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে একসময় তিনি নিজেই তারকাখ্যাতির মোহে আটকে পড়েছিলেন এবং ধীরে ধীরে অহংকারী হয়ে উঠেছিলেন।

তেলুগু সংবাদমাধ্যম গুল্টেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামান্থা বলেন, ছোট শহরের এক সাধারণ মেয়ে হিসেবে তিনি কখনও কল্পনাও করেননি যে একদিন এত মানুষের ভালোবাসা পাবেন। বড় পর্দায় তাঁকে দেখতে দর্শকদের উন্মাদনা, তাঁর নাম ধরে চিৎকার করা—এসবই তাঁর কাছে ছিল বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেই বিস্ময়ই পরে অন্য রূপ নিতে শুরু করে।

অভিনেত্রীর কথায়, “একটি ছোট শহর থেকে উঠে আসা মেয়ে হিসেবে আমি তারকাখ্যাতি কী, তা কাছ থেকে দেখেছি। মানুষ আমাকে ভালোবাসছে, আমার ছবি দেখার জন্য অপেক্ষা করছে, আমার নাম ধরে চিৎকার করছে—এসব আমার কাছে অবিশ্বাস্য ছিল। সেই বিস্ময়ের মধ্যেই আমি কাজ করতে শুরু করি। পরে আমি যেন তারকাখ্যাতির খেলাতেই আসক্ত হয়ে পড়ি।”

সামান্থা জানান, ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে তিনি এতটাই কাজের মধ্যে ডুবে গিয়েছিলেন যে বিশ্রামের কথা ভাবারও সময় পাননি। এক বছরে তিনি টানা পাঁচটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন এবং সবকটিই বক্স অফিসে সফল হয়। এর ফলে ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর সম্পর্কে ‘গোল্ডেন লেগ’ তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে—অর্থাৎ যে ছবিতে তিনি থাকবেন, সেটিই হিট হবে।

এই ধারাবাহিক সাফল্য তাঁর উপর এক অদৃশ্য চাপও তৈরি করেছিল। তিনি মনে করতে শুরু করেছিলেন যে সব প্রত্যাশা পূরণ করার দায়িত্ব তাঁরই। আর সেই মানসিকতা থেকেই ধীরে ধীরে অহংবোধ জন্ম নিতে থাকে। সামান্থা বলেন, সাফল্যের ধারাবাহিকতা তাঁকে বিশ্বাস করিয়ে দিয়েছিল যে তিনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। নিজের শরীরের সীমাবদ্ধতা, মানসিক ক্লান্তি কিংবা বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তাকে তিনি গুরুত্ব দেননি।

তবে জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন তিনি মায়োসাইটিসে আক্রান্ত হন। এই রোগ শরীরের পেশিকে দুর্বল করে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামান্থাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কাজ থেকে দূরে থাকতে হয়। সেই সময়ই তিনি জীবনের অনেক বিষয় নতুন করে উপলব্ধি করেন।

অভিনেত্রীর মতে, অসুস্থতা তাঁকে বুঝিয়েছে যে খ্যাতি, সাফল্য বা জনপ্রিয়তা কোনও কিছুই স্থায়ী নয়। মানুষ যতই সফল হোক না কেন, শরীর ও মনের যত্ন নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উপলব্ধি করেন যে নিজের পরিচয়কে শুধু পেশাগত সাফল্যের সঙ্গে বেঁধে ফেললে একসময় বড় ধরনের মানসিক সংকট তৈরি হতে পারে।

গত কয়েক বছরে সামান্থা নিজের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছেন। তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্যচর্চা, ধ্যান এবং মানসিক সুস্থতার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক হয়েছেন। তাঁর মতে, এখন তিনি শুধুমাত্র সাফল্যের পেছনে ছুটতে চান না; বরং এমন কাজ করতে চান যা তাঁকে শিল্পী হিসেবে তৃপ্তি দেয়।

অভিনয়জীবনের উত্থান-পতনের কথা বলতে গিয়ে সামান্থা এ-ও স্বীকার করেন যে জীবনের কঠিন সময়গুলোই তাঁকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষা দিয়েছে। জনপ্রিয়তার শিখরে ওঠা যেমন তাঁকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল, তেমনই অসুস্থতা তাঁকে নম্র হতে শিখিয়েছে।

বর্তমানে তিনি তাঁর আসন্ন ছবি Maa Inti Bangaram-এর প্রচারে ব্যস্ত। ভক্তদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং নতুন উদ্যমে কাজে ফিরেছেন। সামান্থার এই আত্মসমালোচনামূলক স্বীকারোক্তি অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে—সাফল্য যত বড়ই হোক, জীবনের বাস্তবতা এবং নিজের সীমাবদ্ধতাকে ভুলে গেলে চলবে না। কখনও কখনও সবচেয়ে বড় শিক্ষক হয়ে ওঠে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles