হাইলাইটস
- মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলায় ৩ জনের মৃত্যু।
- হামলার পর অন্তত ৭টি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
- ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
- নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
- হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
মণিপুরের অশান্ত কাংপোকপি জেলায় ফের রক্তপাতের ঘটনা ঘটল। সন্দেহভাজন জঙ্গিদের হামলায় অন্তত তিন জন নিহত হয়েছেন এবং সাতটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গভীর রাত বা ভোরের দিকে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী গ্রামে ঢুকে হামলা চালায়। প্রথমে গুলিবর্ষণ করা হয় এবং পরে কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সাতটি বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ভস্মীভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
হামলায় নিহত তিন জনের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। আহতদের মধ্যে কয়েক জনকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে খবর। তাঁদের মধ্যে কারও কারও অবস্থা গুরুতর বলে জানা যাচ্ছে।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরই পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর যৌথ দল এলাকায় পৌঁছায়। গোটা অঞ্চল ঘিরে ফেলে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। হামলাকারীরা কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের অনুমান, এটি সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীর পরিকল্পিত হামলা হতে পারে।
মণিপুরে গত কয়েক বছর ধরে জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক সংঘাতের আবহে বিভিন্ন জেলায় বিচ্ছিন্ন হিংসার ঘটনা ঘটেই চলেছে। কাংপোকপি জেলা বিশেষভাবে স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতে এখানেও একাধিকবার গুলি, অগ্নিসংযোগ এবং গ্রাম আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।
এই নতুন হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে।
রাজ্য সরকারের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হামলা শুধু প্রাণহানিই ঘটায় না, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা অবিশ্বাস ও বিভেদের পরিবেশকে আরও গভীর করে তোলে। ফলে কাংপোকপির এই ঘটনা মণিপুরে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করল।