৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত নানা পাটেকর। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে দেশের সেবায় এগিয়ে গিয়েছিলেন এই অভিনেতা। তিনি কুইক রিঅ্যাকশন টিমের সদস্য ছিলেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কাটিয়েছিলেন ৬০ দিন।

‘দ্য লাল্লানটপ’-এর সঙ্গে এক আলাপচারিতায় নানা সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেছিলেন, “জর্জ ফার্নান্ডেজ তখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আমি কার্গিলে যেতে চেয়েছিলাম।” প্রথমে তাঁকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পরে সে দিনই তাঁকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। নানা জানিয়েছিলেন, “আমি সেখানে ৬০ দিন ছিলাম।” সেখানে তিনি কী কাজ করতেন, জানতে চাওয়া হলে অভিনেতা বলেন, “ওটা জিজ্ঞেস করবেন না। আমি বলতে পারব না।”

তিনি আরও বলেছিলেন, “শেষ পর্যন্ত আমি কিউআরটি, অর্থাৎ কুইক রিঅ্যাকশন টিমের সদস্য হয়ে যাই। যখন গিয়েছিলাম, আমার ওজন ছিল ৭৬ কিলোগ্রাম। যখন ফিরে এলাম, তখন ৫৬ কিলোগ্রাম। মাত্র দু’মাসে। দেশের জন্য অন্তত এইটুকু তো আমরা করতেই পারি।”

তবে ১৯৯৯ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নানা পাটেকর সেনা জওয়ানদের সঙ্গে “দু’সপ্তাহেরও বেশি সময়” কাটিয়েছিলেন। এক সেনাচৌকি থেকে অন্য সেনাচৌকিতে ঘুরে তিনি কার্যত অনানুষ্ঠানিকভাবে জওয়ানদের মনোবল বাড়ানোর কাজ করছিলেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘প্রহার’ ছবির জন্য মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন নানা। ছবিটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাও করেছিলেন তিনি। প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, “আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বোফর্স নয়, একে-ও নয়। আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আমাদের জওয়ানরা।”

গোয়ায় নিজের বাড়িতে ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যু হয় নানা পাটেকরের। তাঁর ছেলে মলহার বলেন, “হ্যাঁ, খবরটি সত্যি। আমি এখন পুণেতে আছি, গোয়ায় যাচ্ছি। বিস্তারিত বিবৃতি দেব। স্বাভাবিক কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।”

প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নানা পাটেকর। ১৯৭৮ সালের ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ। অভিনয়জীবনে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। ‘পরিন্দা’ ছবির জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার ছিল তাঁর প্রথম জাতীয় পুরস্কার। ‘অগ্নিসাক্ষী’-র জন্যও সেরা পার্শ্ব অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার পান। সেরা অভিনেতা হিসেবে তাঁর একমাত্র জাতীয় পুরস্কারটি আসে ‘ক্রান্তিবীর’ ছবির জন্য। ২০১৩ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়।

তাঁকে শেষ দেখা গিয়েছিল সুরেশ ত্রিবেণী পরিচালিত ‘সুবেদার’ ছবিতে, অনিল কাপুরের সঙ্গে। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া তাঁর শেষ ছবি ছিল বিশাল ভরদ্বাজের ‘ও রোমিও’, যার প্রধান চরিত্রে ছিলেন শাহিদ কাপুর।