নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কংগ্রেস বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার পর মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধ রাজঘাটে জমায়েত নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকে যোগ দিতে আসতে শুরু করেন কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য দলের সাংসদেরা। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই বৈঠকের আয়োজন করেছেন। বৈঠকের পরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নেতাদের মিছিল করে রাজঘাটে যাওয়ার কথা।

কংগ্রেস সাংসদ কোডিকুন্নিল সুরেশ জানান, বিরোধীদের প্রতিবাদ চলবে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও জানান তিনি। সুরেশ বলেন, আন্দোলনের পরবর্তী কৌশল বৈঠকে ঠিক হবে। বৈঠকের পরের বিক্ষোভে রাহুল গান্ধী, খাড়গে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং ইন্ডিয়া জোটের অন্য নেতাদের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা।

এর আগের দিন যন্তর মন্তরের দিকে এগোনো ইন্ডিয়া জোটের মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতাকে আটক করা হয়। পুলিশের বক্তব্য, ওই বিক্ষোভ ঘিরে তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে পুলিশকর্মীদের উপর হামলা ও ধাক্কাধাক্কি, সরকারি কাজে বাধা এবং দুর্ব্যবহার।

জানা গেছে, জোটের সাংসদেরা কনট প্লেসের মোয়েটস রেস্তরাঁয় মধ্যাহ্নভোজে মিলিত হবেন। আগের দিনও মধ্যাহ্নভোজের জমায়েত শেষ পর্যন্ত রাস্তায় বিক্ষোভে পরিণত হয়েছিল।

বৈঠকে তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন ও মহুয়া মৈত্র, সিপিএমের জন ব্রিটাস, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের ই টি মহম্মদ বশির, সিপিআইয়ের পি সন্তোষ কুমার এবং কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা ও মল্লিকার্জুন খাড়গের উপস্থিত থাকার কথা।

খাড়গের আয়োজিত এই মধ্যাহ্নভোজে সমাজবাদী পার্টি দু’জন প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। তাঁরা হলেন ঘোসি কেন্দ্রের সাংসদ রাজীব রাই এবং রামপুরের সাংসদ মহিবুল্লাহ নাদভি। রাজীব রাই নিশ্চিত করেছেন, দল তাঁদের দু’জনকে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দিতে বলেছে। তিনি বলেন, “আমরা সেখানে যাচ্ছি।”

বুধবার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ ও বিক্ষোভে যোগ দেয়নি সমাজবাদী পার্টি। তার পরের দিনই দুই সাংসদকে পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত নিল দল।