কমিশনে বিভাজন, বিরোধীদের ঐক্যের খোঁজ: বেবিকে ফোন মমতার

যা জানা জরুরি
- আগামী সপ্তাহের গোড়াতেই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক ডাকতে রাহুল গান্ধীকেও অনুরোধ তৃণমূল নেত্রীর নির্বাচন কমিশনের অন্দরের বিরোধ নিয়ে একসঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে…
- রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সরিয়ে কমিশনকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিরোধীদের যৌথ কৌশল নির্ধারণের পক্ষে সওয়াল করেছেন মমতা।
- আগামী সপ্তাহের গোড়াতেই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক ডাকতে রাহুল গান্ধীকেও অনুরোধ করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
আগামী সপ্তাহের গোড়াতেই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক ডাকতে রাহুল গান্ধীকেও অনুরোধ তৃণমূল নেত্রীর
নির্বাচন কমিশনের অন্দরের বিরোধ নিয়ে একসঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। সেই চিঠির দু’দিন পরে ফোনে কথা হল দুই নেতার। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সরিয়ে কমিশনকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিরোধীদের যৌথ কৌশল নির্ধারণের পক্ষে সওয়াল করেছেন মমতা। আগামী সপ্তাহের গোড়াতেই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক ডাকতে রাহুল গান্ধীকেও অনুরোধ করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
মমতা ছাড়াও ‘ইন্ডিয়া’ জোট ও অন্যান্য অ-বিজেপি দলের নেতাদের চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে বৈঠকে বসার আবেদন জানিয়েছিলেন বেবি। অনেককে অবাক করে বৃহস্পতিবার সেই চিঠির জবাব দেন মমতা। বেবির সঙ্গে একমত হয়ে তিনিও জানান, এক ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি’ তৈরি হয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে বেবি লিখেছিলেন, “আপনি জানেন, ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে ভারতের নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে যে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা বিস্ফোরক। কমিশন কী ভাবে কর্তৃত্ববাদী কায়দায় কাজ করছে, এই প্রতিবেদন তা প্রকাশ্যে এনেছে। এটি এমন এক অত্যন্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি, যেখানে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং আমাদের গণতন্ত্র বিপন্ন। কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে আমরা যত আপত্তি তুলেছি, সব অগ্রাহ্য করে তারা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। ১৩ কোটিরও বেশি ভোটারকে তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।”
বেবির বক্তব্য ছিল, পরিস্থিতির গুরুত্ব ও জরুরি প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে বিরোধীদের দ্রুত বৈঠকে বসে আলোচনা করাই সমীচীন। গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ভোটাধিকার রক্ষার জন্য মানুষ বিরোধীদের দিকেই তাকিয়ে আছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন সিপিএম নেতা। এই ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি’র মোকাবিলায় কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনার জন্য সব দল নিজেদের সুবিধামতো একটি দিন ও জায়গা স্থির করতে পারে বলেও প্রস্তাব দেন তিনি।
সূত্রের খবর, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বাইরের দলগুলিকেও চিঠি পাঠিয়েছেন বেবি। প্রতিবেদনে এই প্রসঙ্গে বিআরএস, আম আদমি পার্টি, ডিএমকে, তামিলনাড়ুর শাসক দল টিভিকে, বিজেডি এবং ককরোচ জনতা পার্টির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বেবিকে মমতা বলেছেন, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দলগুলির অবিলম্বে বৈঠকে বসে যৌথ কৌশল তৈরি করা প্রয়োজন। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংঘাত চলছে বেশ কয়েক বছর ধরেই।
যোগাযোগ রাখছেন বিরোধী নেতারা
সূত্রের খবর, অনুসন্ধানে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ওই অনুসন্ধানে উঠে আসে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী দশ মাসে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের অজ্ঞাতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় গুরুতর ঘাটতি নিয়েই ছিল সেই আপত্তি।
২৩ সেপ্টেম্বর ওই প্রতিবেদনের জবাব দেয় নির্বাচন কমিশন। দুই কমিশনারের লিখিত আপত্তির অস্তিত্ব স্বীকার করলেও কমিশন সেগুলিকে তাদের ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার’ অংশ বলে বর্ণনা করে। কিন্তু কমিশনারদের উত্থাপিত কোনও উদ্বেগেরই জবাব দেয়নি তারা। ওই আপত্তিগুলির নিষ্পত্তি আদৌ হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে কী ভাবে, তা-ও জানায়নি।
বিরোধী দলগুলি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি করেছে। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে কমিশনের কাজকর্মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার দাবিও তুলেছে তারা। বৃহস্পতিবার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে সংসদে নতুন করে নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেয় বিরোধী দলগুলি।
মমতা ও বেবির এই কথোপকথন এমন সময়ে হল, যখন কয়েক মাস আগে বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যস্ত তৃণমূল অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে। দলের বিধায়ক ও সাংসদদের মধ্যে ভাঙনের পরে চলতি মাসের গোড়ায় আরও এক ধাক্কা আসে। তৃণমূলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীকের ব্যবহার স্থগিত করে দেয় নির্বাচন কমিশন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



