জোড়াফুলের মামলায় দু’পক্ষের কথা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

যা জানা জরুরি
- তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলা শুনতে রাজি সুপ্রিম কোর্ট।
- সোমবার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়ে দেন, দু’পক্ষেরই বক্তব্য থাকতে পারে।
- মামলা শুনানির তালিকায় উঠলে সেই বক্তব্য শোনা হবে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলা শুনতে রাজি সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়ে দেন, দু’পক্ষেরই বক্তব্য থাকতে পারে। মামলা শুনানির তালিকায় উঠলে সেই বক্তব্য শোনা হবে। তবে কবে শুনানি হবে, তা এদিন জানানো হয়নি।
মমতার পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বলের অভিযোগ, কমিশনের কাছে বিষয়টি জুন থেকে বিচারাধীন। তাঁদের তরফে জুলাইয়েই জবাব দেওয়া হয়েছিল। অথচ এত দিন কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারির পরে দলের নাম ও প্রতীক আটকে দেওয়া হল। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাঝপথে এমন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জরুরি শুনানির আর্জি জানান।
প্রধান বিচারপতি তাঁকে বলেন, “দু’পক্ষেরই কিছু বলার থাকবে। মামলা তালিকাভুক্ত হলে তখন সওয়াল করুন। আমরা তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করব।” বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনা। আদালতের এই বক্তব্যে শুনানির পথ খুললেও মমতা শিবির জোড়াফুল প্রতীক ফিরে পেয়েছে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কমিশনের নির্দেশের বিরুদ্ধে তাঁদের আপত্তির বিচার বাকি।
কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনও পক্ষই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের সংরক্ষিত জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। কমিশনের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন দুই গোষ্ঠীই নিজেদের মূল দল বলে দাবি করছে। ফলে ১৯৬৮ সালের নির্বাচনী প্রতীক সংরক্ষণ ও বণ্টন সংক্রান্ত নির্দেশিকার ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিষয়টির বিস্তারিত নিষ্পত্তি প্রয়োজন।
উপনির্বাচনের আগে সেই নিষ্পত্তির জন্য যথেষ্ট সময় নেই বলেই সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। দুই শিবিরের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য বলে দাবি তাদের। উভয় পক্ষকে বিকল্প নাম ও প্রতীকের পছন্দ জানাতে বলা হয়েছিল। মূল দলের নামের সঙ্গে যোগ রেখেও নতুন নাম বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
সেই প্রক্রিয়ায় মমতা শিবির পেয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক। অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের নাম হয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’; তাদের প্রতীক খাম। এটি উপনির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী বন্দোবস্ত। মূল নাম ও প্রতীকের অধিকার শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ পাবে, সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি।
মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরে তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ প্রকাশ্যে আসে। বিদ্রোহী বিধায়কেরা ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করেন এবং বিধানসভার অধ্যক্ষের স্বীকৃতি পান। পরে অরূপকে দলের সভাপতি ঘোষণা করে ওই শিবির। বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে দলের নেতৃত্বের বৈধতা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, জাতীয় কর্মসমিতির মেয়াদ আগেই শেষ হয়েছে; বিশেষ অধিবেশনে অরূপ রায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। মমতার পাল্টা বক্তব্য, দলীয় পদাধিকারীদের মেয়াদ পাঁচ বছরের এবং ২০২২ সালের নির্বাচনের ভিত্তিতে তা ২০২৭ পর্যন্ত বহাল।
কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনে মমতা নির্বাচন কমিশন ও ঋতব্রতকে প্রতিপক্ষ করেছেন। দলের পরিচয় হারানোর বেদনাকে সন্তান হারানো মায়ের যন্ত্রণার সঙ্গে তুলনা করে তিনি জানিয়েছেন, এই সাময়িক বন্দোবস্তকে মীমাংসা বলে মেনে নেবেন না। রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও আইনি পথে মূল পরিচয় ফেরানোর লড়াই চালাবেন।
ইতিমধ্যে নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। সেখানে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মমতার শিবির। ফলে বদলেছে ওই কেন্দ্রে বিরোধীদের নির্বাচনী সমীকরণও।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন; গণনা ৯ অক্টোবর। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ছেড়ে দেওয়ায় ভোট হচ্ছে। ফলে ভোটের মুখে দলীয় পরিচয়ের এই বিরোধ মমতা শিবিরের প্রচারেও প্রভাব ফেলছে। আপাতত নজর, শীর্ষ আদালতে মামলাটি কত দ্রুত শুনানির জন্য ওঠে, সেদিকেই।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



